স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি: মির্জা ফখরুল
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো যাতে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা যায়, সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতিমধ্যে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন…
জাতীয় সংসদে আজ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ঐতিহাসিক জাতীয় বাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেট।
পাস হওয়া এই বাজেটে দেশের ‘মানবিক অর্থনীতি’ গড়ে তোলার একটি সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। মূলত একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এ বাজেটের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য, যা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।
নতুন এই বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবারের পাসকৃত বাজেটে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার সামগ্রিক বাজেট ঘাটতির প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমপরিমাণ। একই সঙ্গে বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশের সমান। দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী একটি বিশেষ ‘৩আর (৩জ) কৌশল’ ঘোষণা করেছেন, যা এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই কৌশলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো— রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন।
নতুন অর্থবছরের জন্য মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমেই আদায় করা হবে ৬ লাখ ৪path কোটি টাকা।
বাজেট বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আজ সরকারি ব্যয়ের অনুমোদন চেয়ে ‘নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন করেন। এতে ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন চাওয়া হলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
এর আগে সোমবার জাতীয় সংসদে ‘অর্থ বিল, ২০২৬’ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ পাস করা হয়েছিল, যার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের স্বস্তি দিয়ে করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের বিতর্কিত বাধ্যবাধকতা বিলুপ্ত করার বিধান উল্লেখযোগ্য। নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয় মিলিয়ে ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির আওতায় নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ের যৌক্তিকতা সংসদে তুলে ধরেন।
অন্যদিকে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এই ৫৯টি মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে মোট ১ হাজার ৩৪৩টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে সেগুলো নাকচ হয়ে যায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র সদস্যসহ মোট ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করে সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ অনুরোধে স্পিকার গিলোটিন পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো দীর্ঘ আলোচনা ছাড়াই একযোগে কণ্ঠভোটে অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের চূড়ান্ত মুহূর্তে বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন এবং বিলটি গৃহীত হওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের আপত্তি জানাননি। এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ২০০৬-০৭ অর্থবছরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের মাধ্যমে দেশের সর্বশেষ জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছিল, যার দীর্ঘ দুই দশক পর আজ আবারও দলটি জাতীয় বাজেট পাস করলো।
সূত্র: বাসস।