বিনোদন ডেস্ক : গত ৮ ডিসেম্বর ছিল অভিনেতা আফরান নিশোর জন্মদিন। এই দিন ভক্তদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সবাইকে চমকে দেন তিনি। সম্প্রতি কাজাখস্তানের বরফঢাকা পাহাড়ি এলাকায় টানা শুটিং, তীব্র ঠান্ডা ও শারীরিক ঝুঁকি নিয়ে ‘দম’ সিনেমার প্রথম লটের কাজ শেষ করে দেশে ফিরেছেন নিশো। সেখানেই তিনি শোনালেন কঠিন পরিস্থিতিতে শুটিংয়ের গল্প। নিশোর সঙ্গে ছিলেন ছবির পরিচালক রেদওয়ান রনিও।
দুর্গম পাহাড়ে আঘাত: পরিচালক রেদওয়ান রনি জানান, ৬ ডিসেম্বর কাজাখস্তান অংশের শুটিং শেষ হয়েছে। বরফঢাকা পাহাড়ি এলাকায় একেবারে সীমিত সুযোগ–সুবিধার মধ্যে তাদের কাজ করতে হয়েছে। এর মধ্যে একদিন তো পাহাড়ের মোড় ঘোরার সময় পাথরে হাত কেটে যায় নিশোর।
রনি বলেন, আঘাত পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার মতো অবস্থাও সেখানে ছিল না। জায়গাটা খুবই দুর্গম ছিল। তাই শুটিং বন্ধ করে বিশ্রামে যাওয়ার কথা ভাবেননি নিশো। হাতে ব্যান্ডেজ নিয়েই পরের দৃশ্যগুলোর শুটিং করেছেন তিনি।
পরিচালক আরও বলেন, এই সিনেমার জন্য শিল্পীরা যেভাবে কাজ করেছেন, এমনটা সচরাচর হয় না। বেশ কয়েক বছর পর চলচ্চিত্র পরিচালনায় ফিরে তিনি বলেন, “‘দম’ নিয়ে ‘দম’ বানাতে এসেছি।” এটি সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে, যেখানে থাকবে সারভাইভাল ড্রামা।
নিশোর অভিজ্ঞতার কথা: ‘দম’ ছবিতে প্রথমবারের মতো রেদওয়ান রনি ও আফরান নিশো একসঙ্গে কাজ করছেন। শুটিং থেকে ফিরে অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে নিশো বলেন,
“‘দম’–এর মতো সিনেমার দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য আশীর্বাদ। টিমকে লিড করার মতো ভূমিকা আমার ওপর ছিল। তখন হাত কাটা–পা কাটার মতো বিষয় মাথায় রাখলে চলত না। আমরা কঠোর শিডিউলে ছিলাম—১০ মিনিট বিরতি মানে পুরো দিনের শিডিউল ফেল করা।”
কাজাখস্তানের প্রতিবন্ধক আবহাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওখানে বেলা দুইটার পর সানলাইট থাকে না। সকাল থেকেই দৃশ্যধারণের জন্য দৌড়াতে হতো। তবে এত প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা এক দিনও বেশি শিডিউল নেননি, যা গর্বের বিষয়।