ক্রীড়া ডেস্ক : আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের পথচলা মাত্র ১৬ বছরের। এই স্বল্প সময়েই তারা বিশ্ব ক্রিকেটে সমীহ জাগানিয়া দলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু মাঠের ভেতরে যতটা দাপুটে, মাঠের বাইরে তাদের জীবন ততটাই কণ্টকাকীর্ণ। বিশেষ করে দলের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খানের ব্যক্তিগত জীবন কাটছে চরম নিরাপত্তার ঝুঁকিতে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি জানিয়েছেন, নিজ দেশে চলাচলের জন্য তাঁকে সবসময় বুলেটপ্রুফ গাড়ি ব্যবহার করতে হয়।
ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা কেভিন পিটারসেনের সঙ্গে এক পডকাস্টে কথা বলার সময় আফগানিস্তানে নিজের জীবনযাত্রা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন রশিদ। তিনি বলেন:
“আফগানিস্তানের রাস্তায় আমি সাধারণ মানুষের মতো হাঁটতে পারি না। আমার একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি আছে এবং সেটি নিয়েই আমাকে চলাফেরা করতে হয়।”
পিটারসেন এই কড়া নিরাপত্তার কারণ জানতে চাইলে রশিদ জানান, দেশটিতে এটি এখন স্বাভাবিক ঘটনা। কেউ নিশ্চিতভাবে জানে না কখন কোথায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তাই নিরাপত্তার খাতিরেই এই ব্যবস্থা।
২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় বসার পর থেকে রশিদ খানের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষা ও নারীদের অধিকার নিয়ে তালেবান সরকারের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। সরকারের সমালোচনা করার কারণে তিনি একপ্রকার ‘চক্ষুশূল’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে মনে করা হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ক্রিকেট শুরু করাটাই রশিদের জন্য ছিল এক সংগ্রামের নাম। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, একটা সময় বাইরে বের হওয়া কিংবা ক্রিকেট খেলার কোনো অনুমতিই ছিল না। অথচ সেই প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উঠে এসে আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা লেগ স্পিনার। রশিদের ভাষায়, “আফগানিস্তানের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল, যা আজ পূরণ হয়েছে কিন্তু এর পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ ও ঝুঁকি।”