ক্রীড়া প্রতিবেদক: সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শুরু হওয়া বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনটি ছিল রোমাঞ্চ আর খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। এক প্রান্তে পাকিস্তানি পেসারদের তোপ, অন্য প্রান্তে অলআউট হওয়ার চরম শঙ্কা—এমন এক কঠিন পরিস্থিতিতে ‘একলা চলো রে’ নীতিতে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এক সেঞ্চুরি উপহার দিলেন লিটন কুমার দাস। তাঁর দুর্দান্ত ১২৬ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের বলার মতো সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ।
টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম (২৬) ও মুমিনুল হক (২২) কিছুটা ইতিবাচক ক্রিকেট খেললেও প্রথম সেশনেই দুজনে বিদায় নেন। তানজিদকে ফেরান মোহাম্মদ আব্বাস এবং মুমিনুল খুররম শেহজাদের এক চমৎকার ডেলিভারিতে বোল্ড হন।

প্রথম সেশনের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয় সেশনে খাদের কিনারায় পড়ে বাংলাদেশ। স্কোরবোর্ড দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১১৬ রান। এই সেশনেই মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন থিতু হওয়া নাজমুল হোসেন শান্ত (২৯), অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (২৩) এবং মেহেদী হাসান মিরাজ (০)।

বাংলাদেশ যখন ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন উইকেটে আসেন লিটন দাস। অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে তাইজুল ইসলাম যখন ক্রিজে আসেন, তখনও লিটনের ব্যক্তিগত রান ছিল মাত্র ২! অর্থাৎ, নিজে থিতু হওয়ার আগেই স্বীকৃত সব ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলেন তিনি।
এরপরই শুরু হয় লিটনের একক প্রতিরোধ। পাকিস্তান বধের চেনা নায়ক লিটন টেলএন্ডারদের আগলে রাখতে এক চতুর স্ট্রাইক রোটেট কৌশল বেছে নেন। ওভারের শুরুর দিকে সিঙ্গেল না নিয়ে পঞ্চম বা ষষ্ঠ বলে সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদল করতেন, যাতে পরের ওভারের শুরুতে তিনি নিজেই স্ট্রাইক পান। এই কৌশলে ওয়ানডে মেজাজে খেলে ১৫৯ বলে ১২৬ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন লিটন, যার মধ্যে ছিল টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের ২৬ রানে ৬ উইকেট পতনের পর করা ১৩৮ রানের সেই ঐতিহাসিক ইনিংসের স্মৃতি আজ সিলেটে ফিরিয়ে আনলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।
লিটনের এই সেঞ্চুরির পেছনে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের অবদানও কম ছিল না:
- সপ্তম উইকেটে (লিটন-তাইজুল): আসে গুরুত্বপূর্ণ ৬০ রান, যেখানে তাইজুল করেন ১৬ রান।
- অষ্টম উইকেটে (লিটন-তাসকিন): যোগ হয় ৩৮ রান।
- নবম উইকেটে (লিটন-শরীফুল): ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়া ৬৪ রানের জুটি আসে।
দলীয় ২৭৮ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে হাসান আলীকে পুল করতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন। শেষ ব্যাটসম্যান নাহিদ রানা ৩ বল টিকলে ২৭৮ রানে থামে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শেহজাদ ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি উইকেট নেন।

প্রথম দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দেখেশুনে দিন পার করেছে পাকিস্তান। দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান। দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল উইকেটে সাবলীল ছিলেন। আগামীকাল দ্বিতীয় দিনে পাকিস্তানি ওপেনারদের দ্রুত ফিরিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৭ ওভারে ২৭৮ (লিটন ১২৬, নাজমুল ২৯, তানজিদ ২৬, মুশফিক ২৩, মুমিনুল ২২; খুররম ৪/৮১, আব্বাস ৩/৪৫, হাসান ২/৪৯)। পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৬ ওভারে ২১/০ (আওয়াইস ১৩*, ফজল ৮*)।