চীন সফর শেষে ট্রাম্প: ইরানে মার্কিন হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পেন্টাগনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হতেই ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের আভাস। হরমুজ প্রণালি ও ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে পেন্টাগনের যুদ্ধের প্রস্তুতি।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নাইজেরিয়ায় যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়ে জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বৈশ্বিক সেকেন্ড-ইন-কমান্ড ও শীর্ষস্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন বাহিনী এবং নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর এই সফল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, তাঁর সরাসরি নির্দেশে মার্কিন বাহিনী ও নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে একটি ‘সুপরিকল্পিত ও জটিল’ যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন আবু-বিলাল আল-মিনুকি, যিনি আইএসের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা (সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) হিসেবে পরিচিত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে নাইজেরিয়ার সরকারকে ইসলামপন্থী জঙ্গিদের হাত থেকে খ্রিষ্টানদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে সমালোচনা করলেও, এই বিশেষ ও সফল অভিযানে অংশীদারত্বের জন্য তিনি নাইজেরীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী লেক চাদ অববাহিকায় আইএসের গোপন আস্তানায় এই হামলা চালানো হয়। অভিযানে আবু-বিলাল আল-মিনুকি (যিনি আবু মাইনক নামেও পরিচিত) এবং তাঁর বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী নিহত হয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট তিনুবু এই অভিযানকে একটি ‘সাহসী যৌথ অপারেশন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নাইজেরীয় বাহিনী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে এই মিশন সফল করেছে, যা ইসলামিক স্টেটের বৈশ্বিক নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।
নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ দেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। দেশটিতে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওপর জঙ্গিদের ধারাবাহিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সোচ্চার। এর আগে গত ডিসেম্বরেও ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় নিরীহ খ্রিষ্টানদের নির্বিচারে হত্যাকারী আইএসের বিরুদ্ধে তিনি একটি ‘শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলার’ নির্দেশ দিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার খোদ আইএসের বৈশ্বিক সেকেন্ড-ইন-কমান্ডকে লিকুইডেট বা নির্মূল করা হলো।
আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, লেক চাদ অববাহিকায় পশ্চিমা ও আফ্রিকান শক্তির এই যৌথ সফল কূটনীতি ও সামরিক অভিযান আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে আইএসের বিস্তার রোধে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।