রাজনীতি

সংসদ ও রাজপথে একযোগে আন্দোলন চলবে: রাজশাহীতে শফিকুর রহমান

রাজশাহী প্রতিনিধি: সরকারের নীতি ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলন সংসদ ও রাজপথে একযোগে চলবে। আজ শনিবার (১৬ মে ২০২৬) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, “যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশের সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব, সেগুলো তারা ফেলে দিয়েছে। এগুলো যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আমাদের আন্দোলন চলবে সংসদে এবং একই সঙ্গে রাজপথেও।”

সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলতে না দেওয়া হলে রাজপথে নামার আলটিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, “যেখানে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কথা বলা লাগে, সেখানে যদি কথা বলতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা সেখানে চলে আসব, যেখানে কথা বলার জন্য স্পিকারের কোনো অনুমতি লাগে না। আমরা তখন জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসব।”

তরুণদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, সেই আন্দোলনের সুফল বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ভোগ করছেন। গণভোটের রায় অগ্রাহ্য করার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে অতীতে কেউ রেহাই পায়নি, আপনারাও রেহাই পাবেন না। গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে।”

বক্তব্যে বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “দেশে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। আপনাদের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল। এখন মানুষ বলে চাঁদাবাজি দল।” এ সময় তিনি দলমত নির্বিশেষে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সরকারের পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এটি যেন শুধু লোকদেখানো ঘোষণা না হয়ে বাস্তবে রূপ নেয়। একই সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “তিস্তাসহ তিনটি নদীর পাড়ের আড়াই কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। কারও রক্তচক্ষুর দিকে না তাকিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমরা চাই, আপনারা শান্তিতে থাকুন, নিজেদের দেশের ভিতরে মানবিক পরিবেশ তৈরি হোক। আপনারা আমাদের শান্তি নিয়ে টান দিলে কারও শান্তি থাকবে না।” এছাড়া ইতিহাস চর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে, তবে শুধু অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে জাতি এগোতে পারবে না।

রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় এবং জামায়াতের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এই বিশাল সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ, জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সিরাজুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালাল উদ্দিন আহমদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

Related News

ব্যাংকিং খাতে বড় ঋণের পথ প্রশস্ত: অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে স্বস্তি নাকি দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি?

বাংলাদেশ ব্যাংকের একক ঋণগ্রহীতা সীমা শিথিল করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি দেশের ব্যাংকিং খাত এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঋণসীমা ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে…

ইশতেহার থেকে বাস্তবতা: তারেক রহমানের নতুন সংগ্রামের ডাক ও আগামীর বাংলাদেশ

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে জয়লাভ করা কেবল একটি যাত্রার শুরু, গন্তব্য নয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে…

ইতিহাসের দর্পণ ‘জুলাই জাদুঘর’: ফ্যাসিবাদের পতন ও আগামীর গণতান্ত্রিক পথের আলোকবর্তিকা

একটি জাতির আত্মপরিচয় এবং গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ইতিহাস যখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়, তখন তা কেবল অতীতের স্মৃতি থাকে না, বরং ভবিষ্যতের জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে…

আশার আলোয় উত্তরবঙ্গ: তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ ও বঞ্চনার নাম তিস্তা নদী। বর্ষায় ভাঙন আর শুষ্ক মৌসুমে মরুকরণ—এই দুই চক্রব্যুহ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’

স্বাস্থ্য খাতে জনস্বার্থের জয়: পড়ে থাকা ৬ শিশু হাসপাতালসহ সব বিশেষায়িত হাসপাতাল চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অব্যবহৃত স্বাস্থ্য অবকাঠামো সচলকরণ এবং দেশের চিকিৎসাসেবা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশাল সব ভবন জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে পড়ে থাকা কেবল রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ই নয়, বরং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নাগরিক নিরাপত্তা: পুলিশি সংস্কার ও কার্যকর ভূমিকার নবদিগন্ত

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং স্বৈরশাসনের অবসানের পর বাংলাদেশে এখন এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক সরকারের মূল…

১৬টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইাধীন, বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: আইনমন্ত্রী

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১০টি পাস হয়েছে। বাকি ১৬টি কেন উপস্থাপন করা হয়নি, তা নিয়ে সচিবালয়ে ব্যাখ্যা দিলেন আইনমন্ত্রী। গুম ও মানবাধিকার আইন নিয়ে নতুন বার্তা।

ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা ব্যর্থ: ট্রাম্পের নীরবতায় যুদ্ধের শঙ্কা

২১ ঘণ্টার দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠক। যুদ্ধবিরতির ১০ দিন বাকি থাকতেই ট্রাম্পের নীরবতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ।

Search