টঙ্গীতে ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযান: ১০,৫০০ ইয়াবা ও নগদ ৫৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ২
গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবর গাজীর বাসা থেকে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। নরসিংদীর দুই কারবারি গ্রেপ্তার।
উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের অন্যতম প্রাণস্পন্দন ‘মুছার খাল’ দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় পর আবার প্রবহমান রূপ ফিরে পেয়েছে। একসময় এই খালের পানি ব্যবহার করে বছরে ৩ বার সোনা ফলানো ফসল উৎপাদন করতেন স্থানীয় কৃষকরা। কিন্তু কালক্রমে দখল-দূষণ, যত্রতত্র অবৈধ বাঁধ নির্মাণ এবং পলি জমার কারণে খালটি মরা খালে পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বর্তমান সরকারের বিশেষ উদ্যোগ ও অর্থায়নে খালটির সাড়ে ছয় কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন করার ফলে অবসান ঘটতে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের সেচ সংকট ও ভয়াবহ জলাবদ্ধতার।
মুছার খালটি সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট থেকে শুরু হয়ে ভবালক্ষ্মীপুরে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুছার খাল পুনঃখনন: ৩ ফসলের স্বপ্ন কৃষকদেরনীগঞ্জ এবং কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন হয়ে তোরাবগঞ্জ উত্তর বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত। একসময় এই খালটি ছিল ওই অঞ্চলের প্রধান নৌপথ ও সেচের মূল উৎস। কিন্তু গত দুই যুগে পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা পানি পেতেন না। বাধ্য হয়ে ৩ ফসলি জমির মালিকরা মাত্র এক ফসলে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছিল।
বর্তমান সরকারের দেশব্যাপী ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচির’ অংশ হিসেবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে মুছার খাল পুনঃখননের এই বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খনন এলাকা: কমলনগর উপজেলার উত্তর সীমানা থেকে শুরু করে ভবানীগঞ্জের চরমনসা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যেই সফলভাবে পুনঃখনন করা হয়েছে।
সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কার: শুধু খাল খননই নয়, এর পাশাপাশি খালের পাড় সংস্কার, স্থানীয় যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তা বাঁধাই এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খালের দুই পাশে সারি সারি গাছ লাগানোর কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
খালটি পুনরায় খনন করার ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন লক্ষ্মীপুরের প্রান্তিক চাষিরা। এখন আর তাদের শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির জন্য হাহাকার করতে হবে না, আবার বর্ষা মৌসুমে কৃত্রিম জলাবদ্ধতায় ফসল পচে যাওয়ার ভয়ও থাকবে না।ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল হাসান রনি বলেন, “অন্য বছরগুলোতে এই তীব্র গরমে বা শুষ্ক মৌসুমে খালে এক ফোঁটা পানিও দেখা যেত না। কিন্তু সরকারের এই সময়োপযোগী খননের মাধ্যমে এখন খালে প্রবহমান জোয়ার-ভাটার পানি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে এলাকার কৃষকরা সব ধরনের সবজি চাষ থেকে শুরু করে আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করতে পারবেন।”
মুছার খাল পুনঃখননে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় কৃষি ও মৎস্য খাতে যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, কোনো প্রভাবশালী মহল যেন পুনরায় এই খাল দখল করতে না পারে এবং খালের মধ্যে নতুন করে যেন কোনো অবৈধ বাঁধ বা নেট-পাটা দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। নিয়মিত তদারকি করা হলে এই খালকে ঘিরেই লক্ষ্মীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।