টঙ্গীতে ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযান: ১০,৫০০ ইয়াবা ও নগদ ৫৮ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার ২
গাজীপুরের টঙ্গীতে বাবর গাজীর বাসা থেকে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। নরসিংদীর দুই কারবারি গ্রেপ্তার।
রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও ধড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি—সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) এবং জেল আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রাজধানীর পল্লবীর বহুল আলোচিত ও লোমহর্ষক শিশু রামিসা (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপারবুক সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে এসে পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে পেপারবুক যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে এবং যেকোনো দিন হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শুরু হবে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে প্রথমে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে ঘাতক সোহেল রানা। পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে সে শিশুটিকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে এবং দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এই লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত অপরাধের পুরো প্রক্রিয়ায় সোহেল রানাকে সরাসরি সহযোগিতা করে তার নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হয়:
৭ জুন (রায় ঘোষণা): অপরাধের গুরুত্ব ও নৃশংসতা বিবেচনা করে ঢাকার সংশ্লিষ্ট আদালত মূল আসামি সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসির আদেশ’ (মৃত্যুদণ্ড) প্রদান করেন।
৯ জুন (হাইকোর্টে নথি): আইন অনুযায়ী নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায়, রায়ের মাত্র দুই দিন পর ডেথ রেফারেন্সের যাবতীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
১৬ জুন (পেপারবুক প্রস্তুত): নথি আসার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বিজি প্রেস থেকে মামলার পেপারবুক (যাবতীয় নথিপত্র ও সাক্ষ্যের সংকলন) প্রস্তুত হয়ে সুপ্রিম কোর্টে জমা হলো, যা বিচার বিভাগীয় তৎপরতার একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।
সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেপারবুকের আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষ হওয়া মাত্রই প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় গঠিত বিশেষ ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য কার্য তালিকায় (Cause List) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
আইনজীবীরা মনে করছেন, যেহেতু এটি একটি অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা এবং সমাজকে নাড়া দেওয়া একটি অতি সংবেদনশীল মামলা, তাই হাইকোর্টেও এর আপিল শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত শেষ করা হবে। রামিসার পরিবার এবং সাধারণ মানুষ আশা করছেন, উচ্চ আদালতেও নিম্ন আদালতের ফাঁসির রায় বহাল থাকবে এবং খুনিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করার মাধ্যমে সমাজে দৃষ্টান্তমূলক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।