আগস্টে মিলতে পারে টানা ৪ দিনের লম্বা ছুটি
আগামী আগস্ট মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য টানা চার দিনের ছুটির এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর সরকারি ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত…
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে আজ রোববার (২১ জুন) সরকারি সফরে দেশটিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট বিকেলে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া সফর শেষ করে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সরাসরি বেইজিং যাবেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ সফরকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি কর্মপরিকল্পনা এবং একটি প্রোটোকলসহ প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। একই সঙ্গে এই সফরে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা প্রকল্প নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করা হবে।
পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলটি বেশ ছোট রাখা হয়েছে, যাতে মাত্র ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য রয়েছেন। ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে এটিকে একটি যুক্তিসংগত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। এই সফরগুলোকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারি শক্তিশালীকরণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সফরের সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবেন। এরপর সরকারি সফরের অংশ হিসেবে ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও তাঁর বিশেষ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই ফোরামে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে।
এই সফরে মালয়েশিয়া পর্বে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে চীন সফরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে জোর দেওয়া হবে। সফর শেষে আগামী শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গতকালের এই ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।