ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ১৯৬০ সালের ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু পানি চুক্তি’ স্থগিত রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থান প্রকাশ করার পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া এলো। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, পানিসংক্রান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা কোনো ধরনের হুমকি তৈরি হলে ইসলামাবাদ ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেও দ্বিধাবোধ করবে না।
সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যম ‘এআরওয়াই নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “যখনই আমরা দেখব আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা—যার সঙ্গে পানির বিষয়টি সরাসরি জড়িত—হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই আমরা ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা বা যুদ্ধে জড়াব।”
পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন ভারত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একটি হামলার ঘটনার পর তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পাকিস্তান যদি তাদের মদদপুষ্ট আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে।
এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে খাজা আসিফ অভিযোগ করেন, ভারত পানিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে পাকিস্তানের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র পানির সংকটে ভুগছেন। বিশেষ করে সিন্ধু ও বেলুচিস্তান অঞ্চলের পরিস্থিতি দিন দিন আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে।
সরকারি পরিসংখ্যানের বরাতে জানা গেছে, সিন্ধু প্রদেশের বিভিন্ন ক্যানাল বা খালে পানির সংকট এখন চরমে। নর্থ ওয়েস্ট ক্যানালে ৬৪.১ শতাংশ, রাইস ক্যানালে ৩৮ শতাংশ এবং দাদু ক্যানালে পানির ঘাটতি প্রায় ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে। সুক্কুর ব্যারেজে পানির স্তর ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ায় তীব্র অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।