গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক দূষণ রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ | দৈনিক শব্দমিছিল
গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন লেকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি দূষণ রোধে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ফুটবল বা যেকোনো খেলাধুলা মানুষের বিনোদন, সৌহার্দ্য এবং সুস্থ মানসিক বিকাশের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ। খেলার মাঠে হার-জিত থাকবে, সমর্থকেরা আবেগাপ্লুত হবেন—এটাই চিরন্তন চেনা রূপ। কিন্তু এই আবেগ যখন অন্ধ উন্মাদনায় রূপ নেয় এবং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ‘সাইবার ট্রলিং’ বা মানসিক নিপীড়নের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা কতটা সামাজিক ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে, তার এক নির্মম ও বুকফাটা দৃষ্টান্ত দেখল কুষ্টিয়ার কুমারখালী। আজ সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াইঘাট এলাকায় রতন (২১) নামে এক তরুণ শ্রমিক কেবল প্রিয় দল ব্রাজিলের পরাজয় এবং এর জের ধরে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের অনবরত নেতিবাচক ট্রল ও বিদ্রূপ সইতে না পেরে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। মাত্র দুই মাস বয়সী এক অবুঝ সন্তানকে এতিম করে এবং পরিবারকে চিরকালের কান্নার সাগরে ভাসিয়ে রতনের এই চলে যাওয়া কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়; এটি মূলত আমাদের বিকৃত ও কুৎসিত ক্রীড়া সংস্কৃতির এক নির্মম বলি।
নিহত রতনের পারিবারিক ও পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার রাতে ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার ফুটবল ম্যাচে ব্রাজিলের পরাজয় কট্টর সমর্থক রতন মানসিকভাবে মেনে নিতে পারছিলেন না। একজন সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের কাছে এই আবেগটুকু হয়তো তাঁর প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবনের একমাত্র আনন্দের জায়গা ছিল। কিন্তু আজ সকাল থেকে প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা রতনের এই মানসিক দুর্বলতাকে পুঁজি করে যেভাবে অনবরত উপহাস, বিদ্রূপ ও সামাজিক ট্রল করা শুরু করে, তা তিনি সহ্য করতে পারেননি। তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়ে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে নিজের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দেন তিনি। কুমারখালী থানার ওসি (তদন্ত) আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে যে তথ্য দিয়েছেন, তা আমাদের পুরো সমাজের বিবেককে এক বিশাল কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। যে খেলাধুলা মানুষকে মেলাবার কথা, সেই খেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এক শ্রেণীর মানুষের নিষ্ঠুর উপহাস আজ একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল।
আমাদের দেশে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা বিভিন্ন বড় দলকে কেন্দ্র করে ফুটবল উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের পর থেকে, এই উন্মাদনা এক বিষাক্ত রূপ ধারণ করেছে। খেলার মাঠের হার-জিতকে কেন্দ্র করে পাড়ায়-মহল্লায় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ধরনের কদর্য ভাষা, ট্রলিং এবং মানসিক হয়রানি (Cyberbullying) করা হয়, তা অনেক সময় একজন মানুষের আত্মসম্মান ও মানসিক স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়। আমরা ভুলে যাই যে, পর্দার ওপারে বা আমাদের পাশের বাড়ির মানুষটির মানসিক অবস্থা সবসময় একরকম থাকে না। খেলার ছলে করা একটি নিষ্ঠুর মন্তব্য বা বিদ্রূপ যে কাউকে আত্মহননের মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে, কুষ্টিয়ার এই ঘটনা তার জলন্ত ও বেদনাদায়ক প্রমাণ।
মাত্র দুই মাসের এক দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে রেখে রতনের এই করুণ বিদায় যেন আমাদের সমাজের অন্ধ সমর্থকদের চোখ খুলে দেয়। খেলার মাঠের জয়-পরাজয় দিয়ে মানুষের জীবন বা মর্যাদা মাপা যায় না। বিনোদনের নামে এই নিষ্ঠুর ট্রলিংয়ের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ হোক এবং ভবিষ্যতে আর কোনো রতনকে যেন খেলার মাঠের উন্মাদনার বলি হতে না হয়—এটাই আমাদের আকুল প্রত্যাশা