চুক্তি না হয় আত্মসমর্পণ—ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম
ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা আছে—সমঝোতা চুক্তি কিংবা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড…
ফুটবলবিশ্বে রাতারাতি হইচই ফেলে দিয়েছে ছোট্ট এক দেশ—কেপ ভার্দে। শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমে যেভাবে তারা চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে, তাতে ম্যাচ হারলেও ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে দলটি। বিশ্বমঞ্চে নতুন পরাশক্তি হিসেবে জানান দেওয়া এই দেশটিকে নিয়ে এখন সাধারণ মানুষের কৌতুহলের শেষ নেই। চলুন জেনে নেওয়া যাক আটলান্টিক মহাসাগরের এই নতুন ফুটবল বিস্ময় সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য:
কোথায় এই কেপ ভার্দে? ভৌগোলিক দিক থেকে কেপ ভার্দে কোনো একক ভূখণ্ড নয়, এটি মূলত পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ১০টি আগ্নেয়গিরির দ্বীপের একটি সমষ্টি। মাত্র ৪ হাজার ৩৩ বর্গকিলোমিটারের এই দেশটিতে জনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৫ লাখের কাছাকাছি।
পর্তুগিজ উপনিবেশ ও ভাষা: ১৪৫৬ সালে পর্তুগিজ নাবিকরা এই জনমানবহীন দ্বীপগুলো আবিষ্কার করে। পরবর্তীতে এটি পর্তুগালের একটি গুরুত্বপূর্ণ দাস বাণিজ্য কেন্দ্রে পরিণত হয়। দীর্ঘকাল পর্তুগিজ উপনিবেশ থাকার পর ১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই দেশটি পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে। দেশটির অফিশিয়াল ভাষা পর্তুগিজ হলেও স্থানীয় মানুষ ‘ক্রিওলো’ নামের একটি মিশ্র ভাষায় কথা বলে।
দেশের চেয়ে প্রবাসেই মানুষ বেশি! দেশটির সবচেয়ে অদ্ভুত এবং চমকপ্রদ বৈশিষ্ট্য হলো, কেপ ভার্দের মূল ভূখণ্ডে যত মানুষ বাস করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ বাস করেন দেশের বাইরে প্রবাসী হিসেবে! অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের খোঁজে দেশটির সিংহভাগ মানুষ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
ফুটবলে অবিশ্বাস্য উত্থান: একটা সময় ফিফা র্যাংকিংয়ে তলানিতে থাকা এই দেশটিকে ফুটবলে বলা হতো ‘মিনোজ’ বা দুর্বল দল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ২০২৪ ও ২০২৬ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনস (AFCON) এবং বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে তারা একের পর এক বড় দলকে হারিয়ে চমক দেখায়। তাদের ডাকনাম ‘টুবাহোস আজুইস’ (Blue Sharks) বা নীল হাঙর।
বিশ্বখ্যাত তারকাদের সাথে সংযোগ: অনেকেই হয়তো জানেন না, পর্তুগালের কিংবদন্তি ফুটবলার নানি (Nani), ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সাবেক সতীর্থ রেনাতো সানচেস এবং সুইডেনের কিংবদন্তি হেনরিক লারসনের মতো বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের পূর্বপুরুষ বা বংশোদ্ভূত শিকড় ছিল এই কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জেই!
আর্জেন্টিনার মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে তাদের মাঠের লড়াকু পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দিয়েছে, বিশ্ব ফুটবলে এখন আর কোনো দলই ছোট নয়। এই ‘নীল হাঙর’দের রূপকথা কেবল শুরু হলো মাত্র।