ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিনন্দন
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন নাগরিকদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) পাঠানো এক…
নিজস্ব প্রতিবেদক (সাভার, ঢাকা): ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠ এলাকায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। এই হামলায় অন্তত চারজন এনসিপি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে এই ককটেল হামলা চালানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে এনসিপি ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার সাভারে পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে তারাপুর ঈদগাহ মাঠে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদের সভাপতিত্বে সমাবেশ শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। রাত পৌনে ১০টার দিকে নাবিলা তাসনিদের বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ মঞ্চের সামনের দিকে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মাঝে একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে সমাবেশস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চারজন রক্তান্ত জখম হন।
বিস্ফোরণে আহত ব্যক্তিরা হলেন-মো. শাহীন খন্দকার (৩০), মো. জসিম (২৬), মো. শাহাদাত হোসেন (৪০), ইমরান হোসেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক হাসান জানান, চারজন রোগীর মধ্যে একজনের পায়ের আঘাত কিছুটা গুরুতর। তিনজনকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) পাঠানো হয়েছে। রোগীরা বোমা বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এই বর্বরোচিত হামলার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি প্রধান ও চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন,
‘প্রশাসন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে নাই, প্রশাসনকে এর জবাব দিতে হবে। আপনারা ককটেল ফোটান, গুলি চালান, বোমাবাজি করুন—এনসিপির জুলাই পদযাত্রা চলমান থাকবে। সারা বাংলাদেশের আনাচকানাচে প্রতিটি উপজেলায় আমরা জুলাই পদযাত্রা নিয়ে যাব। স্থানীয় এমপি (সংসদ সদস্য) সে কী করে? সে কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে এই এলাকার মানুষের? আজকে আমাদের এখান থেকে অনেক লোক গুরুতর আহত হয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।’
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সমাবেশের শুরুতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি একে ‘খুনের পরিকল্পনা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যারা এই ককটেল হামলাকারীদের প্রশ্রয় দেবে, তাদের পরিণতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মতো হবে। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ যদি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারে, তবেই বোঝা যাবে তারা নিরপেক্ষ, অন্যথায় এটি পুলিশের স্পষ্ট ব্যর্থতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিষ্ক্রিয়তা।
ঘটনার পরপরই এনসিপির বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা একটি বিশাল মিছিল নিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা থানার ভেতরে গিয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হলে তাঁরা থানা থেকে বিদায় নেন।
যোগাযোগ করা হলে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন জানান, এনসিপির সমাবেশে বক্তৃতা চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনার পরপরই পুলিশ নেতারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাঁদের থানায় পৌঁছে দিয়েছে।
এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে এজাহার দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনা তদন্তে ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিসহ পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গাজীপুরের কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ এলাকা থেকে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নাহিদ ইসলাম। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন,
‘ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে যে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এই বিএনপি সরকার এখন সেই গণভোট এবং জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।’
সাভারের এই ককটেল হামলার পর ঢাকা জেলা এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে।