দশানী-গিলাতলা সড়কের সংস্কার কাজের উদ্বোধন
বাগেরহাটের দশানী-গিলাতলা সড়কের স্থগিত থাকা সংস্কার কাজের উদ্বোধন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ৭২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্প।
মোঃ হারুন অর রশীদ
‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে লালমনিরহাটে শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬। দেশের মৎস্য সম্পদ সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ ও প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ১৬ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ৩ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
আজ ১৬ আগস্ট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত শুভ উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহাদত হোসেন সুমা এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার জামান, জেলা তথ্য অফিসার সৌমিক রায়, জেলা মৎস্য জীবিদল সভাপতি ফজলার রহমান বুলু।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন লালমনিরহাট সদরের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামসুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার জামান জেলার মৎস্য খাতের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। সঞ্চালক সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামসুর রহমান মৎস্য খাতের মাঠপর্যায়ের সম্ভাবনা ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে গৃহীত নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি বলেন, “আমিষের চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে মৎস্য খাতের ভূমিকা অপরিসীম। আধুনিক প্রযুক্তির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, যা দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে।” বক্তব্য শেষে মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সমাপনী ও সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, জেলা জুড়ে নিরাপদ ও বিষমুক্ত মাছ উৎপাদনের ধারা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন সর্বদা প্রান্তিক ও বাণিজ্যিক চাষিদের পাশে থাকবে এবং এ খাতের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
আলোচনা সভা শেষে ২০২৫ সালের অবদানের ভিত্তিতে জেলার ৩ জন সফল মৎস্যচাষিকে ৩টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ মৎস্য পুরস্কার (ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট) প্রদান করা হয়।
শ্রেষ্ঠ মৎস্যচাষি পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা ক্যাটাগরিপুরস্কৃত চাষি ও প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও আয়ের বিবরণ
নিরাপদ মাছ উৎপাদন (কার্প, তেলাপিয়া, শিং ও মাগুর)আহনাফ হাবিব ইনতেসার (স্বত্বাধিকারী, অনিন্দ্য মৎস্য খামার)২৪টি পুকুরে ১.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬৩.৯৫ মে.টন মাছ উৎপাদন ও ২.১৮ কোটি টাকা আয়। (অনুপস্থিতিতে গ্রহণ করেন খামার ব্যবস্থাপক প্রভাত কুমার রায়)
মৎস্য উৎপাদন (কার্প মিশ্র চাষ)এম এম মেহেদী হাসান মেহের (তুষভান্ডার, কালিগঞ্জ)১২টি পুকুরে (৮.৪১ হেক্টর) ৮০ লাখ টাকা বিনিয়োগে ৫৯.৮১ মে.টন মাছ উৎপাদন ও ১.১৭ কোটি টাকা আয়।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উন্নয়ন আল ইমরান (সাবেক ছিটমহল রসুলগঞ্জ, পাটগ্রাম)৪টি পুকুরে ২২.৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯.৭৫ মে.টন মাছ ও ১১.০৫ লাখ পিস পোনা উৎপাদন এবং ৩৭ লাখ টাকা আয়।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচিত এ অনুষ্ঠানে সফল মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধিরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সংবাদকর্মী ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এতে উপস্থিত ছিলেন।