চুক্তি না হয় আত্মসমর্পণ—ইরানকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম
ইরানের সামনে এখন কেবল দুটি পথ খোলা আছে—সমঝোতা চুক্তি কিংবা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড…
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ ও সামরিক সংঘাত এখনই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। কূটনৈতিক আলোচনা যখন কার্যত স্তব্ধ, ঠিক তখনই তিনি দাবি করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরান বর্তমানে অত্যন্ত ‘শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে’ রয়েছে।
শুক্রবার একদল চিকিৎসকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় পেজেশকিয়ান বলেন
যেহেতু আমরা এখন শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছি, তাই এখনই এই যুদ্ধ শেষ করা আমাদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। পুরো বিশ্ব আজ ইরানের বিজয়কে স্বীকার করে নিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সকল নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে ইরানের স্কুল, হাসপাতাল ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে তারা চরমভাবে ঘৃণিত ও নিন্দিত হচ্ছে।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের পক্ষে জোরালো সাফাই গান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। সরকারের অভ্যন্তরীণ কট্টরপন্থী পার্লামেন্ট সদস্যরা এই সমঝোতাকে ‘আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে যে সমালোচনা করেছিলেন, তা প্রত্যাখ্যান করে পেজেশকিয়ান চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, চুক্তির একটি ধারাতেও ইরানের আত্মসমর্পণের কোনো উল্লেখ নেই; বরং সমতার ভিত্তিতে প্রতিপক্ষকেই সকল প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে।
তবে সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরই সামরিক অবস্থানে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন:
স্থল, সমুদ্র, আকাশ, বিমান প্রতিরক্ষা এমনকি সাইবার সেক্টরেও যেকোনো হামলা মোকাবিলায় ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নতুন কোনো হুমকি বা দু সাহসিকতা দেখা দিলে তার বিধ্বংসী ও চরম জবাব দেওয়া হবে।
সংঘাতের আবহে ওমান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হলেও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমেনি। ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি আংশিক অবরুদ্ধ করে রেখেছে, যা কাটাতে ওয়াশিংটন পাল্টাপাল্টি নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, প্রণালির দক্ষিণ অংশ দিয়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলবাহী গোপন ট্যাংকার বহরকে পাহারা দিয়ে পার করছে মার্কিন নৌবাহিনী।
অন্যদিকে আলোচনা ও সমঝোতা নিয়ে তৈরি সংশয় কাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন:
হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের গোটা অঞ্চলের ওপর আমাদের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ইরান একটি চুক্তি করতে চাইলেও সঠিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তারা এখনো সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও সম্প্রতি এক ঘোষণায় জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতির ওপর নজিরবিহীন কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাদের সরকারকে ধসিয়ে দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে ওয়াশিংটন।