যশোরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত
কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে যশোরে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। পড়ুন দৈনিক শব্দমিছিলে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ব্যবসায় বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়ে কুড়িগ্রামের প্রায় ১৫০ জনের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর চার নেতার বিরুদ্ধে। বিনিয়োগের টাকা ফেরত, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা।
বুধবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ২০২০ সালে জামায়াতে ইসলামীর কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, রোকন আবদুস সালাম এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে প্রায় ১৫০ জনের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ হিসেবে নেওয়া হয় বলে তাঁদের দাবি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিনিয়োগের বিপরীতে কিছু সময় নিয়মিত মুনাফা দেওয়া হলেও ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। একই বছরের ১৬ নভেম্বর অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। এরপর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়।
টাকা ফেরতের দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমিরের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
ভোগডাঙ্গার স্কুলশিক্ষক মোহফুজুল হক বলেন, ২০২২ সালে রফিকুল ইসলাম ও শাহজালাল সবুজের উপস্থিতিতে তিনি সাড়ে ৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ থেকে লাভ দেওয়ার কথা বলে প্রতি লাখে এক হাজার টাকা করে মুনাফা দেওয়া হতো।
২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি মুনাফার টাকা পেয়েছেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে গিয়ে সেটিতে তালা ঝুলতে দেখেন।
চর যাত্রাপুরের বাসিন্দা মোছলেমা বেগম বলেন, ‘সুদমুক্ত হালাল ব্যবসার কথা বলে ১০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মী। অবসর ও এনজিও থেকে ঋণ করে টাকা দিয়েছিলাম। দুই বছর ধরে মুনাফা তো দূরের কথা, টাকাও ফেরত পাচ্ছি না।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমির আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, দলীয় তদন্তে রফিকুল ইসলামকে বহিষ্কার এবং শাহজালাল সবুজের রোকনিয়ত দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে অন্য দুজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীদের পাওনা টাকা ফেরতের বিষয়ে ন্যায়সংগত ও আইনসংগত পদক্ষেপে তাঁদের পাশে থাকার কথাও জানান জেলা জামায়াতের আমির।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজালাল সবুজ। তাঁর দাবি, ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ মূলত রাজারহাট উপজেলার রফিকুল ইসলামের ব্যক্তিগত ব্যবসা। তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, চারজন পরিচালক চুক্তিবদ্ধ হয়ে ব্যবসাটি শুরু করেছিলেন এবং আরও দুজন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর ভাষ্য, ছয় পরিচালকই ব্যবসা থেকে সুবিধা নিয়েছেন।
ভুক্তভোগীরা তাঁদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।