কালিয়াকৈরে কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ নিহত ৩
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়ীয়া সড়কে।
ঢাকা: ছয় বছর প্রবাসে থেকে কষ্টার্জিত অর্থে পরিবারের জন্য কেনাকাটা করে দেশে ফিরেছিলেন সৌদি প্রবাসী মনির হোসেন। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন শেষে বেল্ট থেকে নিজের লাগেজ হাতে পেতেই তার সেই আনন্দের মুহূর্ত নিমেষেই হতাশায় পরিণত হয়। দেখা যায়, ব্যাগের চেইন খোলা ও মালামাল উধাও। শুধু মনির একা নন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ কাটা, জিনিসপত্র চুরি ও যাত্রী হয়রানির এই চিত্র এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বিমানবন্দরের লাগেজ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্বল নজরদারি ও জবাবদিহির সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। আর এই বিশৃঙ্খলা খতিয়ে দেখতে অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি।
বাংলাদেশ বিমানের তথ্য অনুযায়ী, লাগেজসংক্রান্ত হয়রানির অভিযোগের ভয়াবহ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শুধু ২০২৫ সালেই লাগেজ হারিয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ১ হাজার ৩৮৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৭১টি অভিযোগ নিষ্পত্তির দাবি করা হলেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫টি ক্ষেত্রে। এছাড়া ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসেই জমা পড়েছে আরও ৯২২টি অভিযোগ, যার মধ্যে ৯১৪টি নিষ্পত্তির দাবি করা হয়েছে। তবে বিপুলসংখ্যক অভিযোগ নিষ্পত্তি দেখানো হলেও যাত্রীরা বাস্তবে কোনো প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।
যাত্রীদের ধারাবাহিক হয়রানির প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন (রাসেল) হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি ও পরবর্তী আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ১১ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটির আহ্বায়ক ও বেবিচকের সদস্য (প্রশাসন) এস এম লাবলুর রহমানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে বেশ কিছু গুরুতর অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিমানবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে লাগেজ গ্রহণ, বাছাই, পরিবহন, লোডিং-আনलोडিং ও ডেলিভারি প্রক্রিয়া সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করবেন কমিটির সদস্যরা।
তদন্তে জানা গেছে, অসাধু কর্মীরা লাগেজ ছুড়ে ফেলার পাশাপাশি কৌশলে সেগুলোকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে নিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের ওপর নজরদারির জন্য বডি ক্যামেরা চালু করা হলেও চুরি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ক্যামেরা চালুর ফলে অনিয়ম কমেছে কি না, তা যাচাই করতে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত ও তুলনামূলক পরিসংখ্যান চেয়েছে কমিটি।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক ও তদন্ত কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর মনে করেন, শুধু মিটিং করে বা ফাইল বন্দি করে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা সম্ভব নয়; পুরো প্রক্রিয়াটি সরেজমিন দেখা জরুরি।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি আর যাত্রীকে প্রকৃত প্রতিকার দেওয়া এক বিষয় নয়। হাজার হাজার অভিযোগের বিপরীতে হাতেগোনা কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে পুরো প্রক্রিয়ার জবাবদিহি নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।’
এদিকে লাগেজ ছুড়ে ফেলা ও চুরির ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ইতোমধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২ জন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১ জন কর্মীসহ মোট ৩ জনকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এমন অনিয়মের অভিযোগে কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও তলব করেছে তদন্ত কমিটি।