মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের শঙ্কায় বাড়ছে তেলের দাম
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা ও হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ঝুঁকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ৯৭.৩৪ ও WTI ৯২.৬৩ ডলারে।
আন্তর্জাতিক: প্যারিসের ঐতিহ্যবাহী আইফেল টাওয়ারে একটি হিন্দু ধর্মীয় প্রতিনিধি দলের সফরকে কেন্দ্র করে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করেছেন স্থাপনাটির কর্মীরা। ফলে সোমবার দিনভর দর্শনার্থীদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ ছিল বিশ্বখ্যাত আইফেল টাওয়ার।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি প্রায় ১০০ সদস্যের একটি ধর্মীয় প্রতিনিধি দলের সফরকে কেন্দ্র করে। ‘বোচাসনবাসী অক্ষর পুরুষোত্তম স্বামীনারায়ণ সংস্থা’ (বিএপিএস) নামের সংগঠনটির প্রতিনিধি দলটি প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ফ্রান্সে অবস্থান করছিল।
আইফেল টাওয়ার পরিচালনাকারী সংস্থা ‘সেটে’ (SETE)-এর কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, প্রতিনিধি দলের সফরের সময় নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুরুষ কর্মীদের দিয়ে তাঁদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নারী কর্মীদের চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
পরবর্তীতে পরিচালনাকারী সংস্থাটি স্বীকার করে যে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে নারী কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ সীমিত রাখার আবেদন গ্রহণ করা তাদের ভুল ছিল।
সেটের সভাপতি অ্যারিয়েল ওয়েইল এএফপিকে বলেন, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ফরাসি প্রজাতন্ত্রের নারী-পুরুষ সমতার মৌলিক নীতির প্রতি তাঁদের প্রতিষ্ঠান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের পর বিএপিএস কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে ঘটনার কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি জানায়, তারা সার্বজনীন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাস করে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। সমতা বিষয়ক মন্ত্রী অরোরে বার্জ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ফ্রান্সে কোনো ধর্ম বা নীতি আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
এ ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। মেরিন ল্যু পেন ও গ্যাব্রিয়েল আতালসহ শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা ঘটনার সমালোচনা করেছেন।
ধর্মঘটের কারণে সোমবার আইফেল টাওয়ার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবার থেকে স্থাপনাটি আবার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার কথা জানানো হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ আইফেল টাওয়ারে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ দর্শনার্থী ভিড় করেন। ফলে এক দিনের এই বন্ধের ঘটনাও আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা, কর্মক্ষেত্রে সমতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যবিরোধী নীতির প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।