আন্তর্জাতিক: দীর্ঘ তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও সার্বিক মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাতজন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক। কারাগারে থাকা একজন মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কথা বলার জন্য তারা অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো এই গুরুত্বপূর্ণ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ক্রিকেট বিশ্বের পরিচিত মুখ অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ।
চিঠিতে তাঁরা পরিষ্কার করে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁরা কোনো কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়, বরং স্রেফ সাবেক সহকর্মী ও অধিনায়ক হিসেবে মানবিক তাগিদ থেকেই এই চিঠি লেখার প্রয়োজন অনুভব করেছেন। আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে তাঁরা কোনো পক্ষ নিচ্ছেন না এবং বিষয়টি সম্পূর্ণ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, রাজনীতির হিসাব যা-ই হোক না কেন, কারাবন্দী যেকোনো মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে এবং তাঁর মৌলিক মানবিক অধিকার রক্ষা করা হচ্ছে কি না, তা সম্পূর্ণভাবেই মানবতার মৌলিক বিষয়।
ইমরান খানের মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে এর আগে গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছেও একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। ৭৩ বছর বয়সী এই নেতার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড—যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন—তাঁকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করা।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল যা-ই আসুক না কেন, চিকিৎসকদের প্রস্তাবিত চিকিৎসা অবিলম্বে ও বিনা বাধায় প্রদান করা।