জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েও লিটারে ৭০ টাকা লোকসান: রিজভী
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঢাকা: জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল থেকে দলটির নেতারা এ দাবি জানান।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।
তিনি সরকারপ্রধানের উদ্দেশে বলেন, ‘এত বড় ব্যর্থতা কী আর হতে পারে যে তিনবারে সাত মাসের মধ্যে দাম বাড়ানো লাগল? তাহলে কী করে আপনি সামনের পাঁচ বছর অতিবাহিত করবেন?’
গোলাম পরওয়ার বলেন, পেট্রোল, ডিজেল, অকটেন ও কেরোসিন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এসব জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের পক্ষ থেকে লোকসান ও ভর্তুকির যুক্তি দেওয়া হলেও জনগণের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপানোর পরিবর্তে সরকারের নিজস্ব সক্ষমতা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের করের অর্থ থেকে সরকারের বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি দেওয়ার দায়িত্ব সরকারেরই। কৃষকের সারসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির ক্ষেত্রে সরকার লোকসানের যুক্তি দিতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
গোলাম পরওয়ার জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে।
সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদ’ ও ‘কর্তৃত্ববাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হলে রাজপথে তার ফয়সালা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সরকার ‘দখলদারি ও নৈরাজ্যের’ পথ থেকে ফিরে না এলে গ্রাম, শহর ও বন্দর থেকে রাজধানীমুখী লংমার্চের হুঁশিয়ারিও দেন গোলাম পরওয়ার।
সরকারের ভেতরের একটি ‘অশুভ চক্র’ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতও মহাখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে। মহাখালী কলেরা হাসপাতালের সামনে রেলগেট এলাকায় আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
জুবায়ের অভিযোগ করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে তিনবার জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। তাঁর দাবি, জ্বালানি সংকটের প্রভাব দ্রব্যমূল্য, কৃষি, শিল্প ও পরিবহন খাতে পড়ছে।
তিনি জানান, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তাতে সাড়া দেয়নি। বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সমাবেশে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও ডাকসু ভিপি আবু সাদিকসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম।
জামায়াতের পক্ষ থেকে একই দিনে চট্টগ্রাম ও খুলনাতেও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের খবর পাওয়া গেছে।
সরকার ২০ সেপ্টেম্বর রাতে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জামায়াতসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংগ্রহের ব্যয় বিবেচনায় দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।