রাজধানীর ৪ হাসপাতালেই ৬১% ডেঙ্গু রোগী কম দেখিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
অনুসন্ধানে রাজধানীর চার সরকারি হাসপাতালে প্রকৃত ডেঙ্গু রোগীর চেয়ে ৬১ শতাংশ কম দেখানোর তথ্য উঠে এসেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে।
ঢাকা: সরকারি হাসপাতালের সামনে নতুন করে কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোও যথাযথভাবে কার্যক্রম পরিচালনা না করলে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন করে সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেগুলো নিয়ম মেনে না চললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম থাকার পরও সাপের কামড়ে রোগী মারা যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাপ দংশনের পর রোগী বিষধর সাপের কামড়ের শিকার কি না, তা নিশ্চিত হতে অনেক সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তবে হাসপাতালে আসতে দেরি হলে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়ে যেতে পারে।
তিনি সাপের কামড়ের পর দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। মন্ত্রীর দাবি, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে হাসপাতালে একসঙ্গে ১০ জন রোগীকে ডায়ালাইসিস দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। একই সময়ের মধ্যে আধুনিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেন্টার চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় মন্ত্রীর নজরে আনেন। এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন তিনি।
এর আগে দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে রোগীদের সেবা এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি খোঁজ নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন তিথি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নুসরাত ফারজানা খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।