লংমার্চে গিয়ে কিছু গাড়ির টোল দেয়নি বিরোধী দল: রিজভী
জ্বালানি সংকটের মধ্যে রংপুরের লংমার্চে সাড়ে চারশো গাড়ি অংশ নেয় এবং এর কিছু গাড়ি টোল পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বাসে আগুন ও ককটেল হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, ১১ দলীয় জোট ও আওয়ামী লীগ—এই দুই বিরোধী পক্ষকে সামলে বিএনপিকে সরকার পরিচালনা করতে হচ্ছে। এ কারণে বিএনপি বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, বিরোধী পক্ষগুলোর একটি অংশ আগামী ডিসেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু করতে চায় এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেখ হাসিনাও ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরতে চান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, দেশকে অশান্ত করার উদ্দেশ্যে জামায়াত, এনসিপি ও আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেছেন কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
তিনি আরও দাবি করেন, এনসিপির এক নেতা আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের মধ্যে সমন্বয়ের অভিযোগ করেছেন। একই দলের আরেক নেতার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে রাশেদ খান বলেন, ১১ দলের দাবি মেনে নেওয়া হলে ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হবে—এমন বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। জুলাইয়ের সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন রাশেদ খান।
রাশেদ খান বলেন, সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের কর্মসূচি কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। তাঁর অভিযোগ, লংমার্চের নামে পিকনিকের মতো করে ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে। সরকার ভর্তুকি দিয়ে জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের নেওয়া উদ্যোগের ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থাকবে না বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী।
রাশেদ খান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফেরাতে অনেকে সক্রিয় রয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে আদানি গ্রুপের সঙ্গেও চুক্তির বিষয় উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, চুক্তি থাকলেও আদানি কখনো বিদ্যুৎ দিচ্ছে, আবার কখনো দিচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর ঘিরে আওয়ামী লীগ ‘অপতৎপরতা’ ও ‘অসৌজন্যতায়’ মেতেছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খান। বিদেশের মাটিতে এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।