সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই উদ্যোগের লক্ষ্য।
ঢাকা: নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে মন্ত্রী-এমপিদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ ‘অন্যায় সিদ্ধান্ত’ হবে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদে গেছে জনগণের প্রয়োজনের কথা বলতে, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়। সরকার এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নিলে তাঁরা প্রতিবাদ করবেন এবং বাধা দেবেন বলেও জানান তিনি।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে জামায়াতে ইসলামী সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ির সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল বলে জানান শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, জামায়াতের সংসদ সদস্যরা এসব সুবিধা নেননি। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরাও পরে একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সংসদে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন সবার সঙ্গে আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে অংশীদার হওয়ার কথা বলা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয় বলে তাঁর বক্তব্য।
সরকার এক বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় কোটি নতুন কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল—এমন দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে অনেকে কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকায় সাম্প্রতিক যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টানা হচ্ছে—এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, জামায়াত নিজের কর্মসূচি সফল করতে চায়; তাই কর্মসূচির আগের দিন বাসে আগুন বা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো কারণ নেই। তাঁর দাবি, কেউ যদি লংমার্চ বানচাল করতে এমন ‘প্যানিক সিচুয়েশন’ তৈরি করে থাকে, তাহলে দায় তাদের।
তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; তাঁর দাবির স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনে করা হয়নি।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়েও কথা বলেন জামায়াতের আমির। তাঁর ভাষ্য, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ব্যয় বাড়ে।
সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানির দাম নিয়ে যে যুক্তি দেয়, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ওই দেশগুলোর সঙ্গে তুলনীয় কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
শফিকুর রহমান দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক দফায় ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, এর প্রভাব বাইকচালক, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ওপর সরাসরি পড়ে।
সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন নোটিশ আলোচনায় আনা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা নোটিশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সরকার বিরোধী দলের বক্তব্য ও পরামর্শ গুরুত্ব না দিলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি বলেছেন, সরকার কথা না শুনলে আন্দোলনের মাধ্যমেই বিষয়গুলোর ফয়সালা হবে।
সংসদ নির্বাচনের পর তুলনামূলক কম সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর বক্তব্য অনেক সময় ফটোকার্ড বা সংক্ষিপ্ত প্রচারে ভিন্নভাবে উপস্থাপিত হয়। এ কারণে বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সরকারি খরচে বিদেশ সফর না করা এবং সরকারি বরাদ্দের কিছু সুবিধা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার না করার কথাও মতবিনিময় সভায় তুলে ধরেন জামায়াতের আমির।
মতবিনিময় সভায় জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।