যশোরে শার্শা সীমান্ত থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকার ২৬টি স্বর্ণের বারসহ যুবক গ্রেপ্তার
যশোরের শার্শা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৩ কেজি ৪৩৮ গ্রাম ওজনের ২৬টি স্বর্ণের বারসহ এক যুবক গ্রেপ্তার হয়েছেন। জব্দ করা স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের মূল অভিযুক্ত এবং পলাতক ব্যাংক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও শ্রীনগর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে আটক করা হয়।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে আটকের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হাসান।
পুলিশ জানিয়েছে, ব্যাংক থেকে গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাত নয়টার দিকে ঢাকার মিরপুর-১-এর পাইকপাড়া এলাকায় তাঁর বোনের বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তাঁকে মুন্সিগঞ্জে নিয়ে আসা হয়েছে এবং আজ ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
গ্রাহকদের জমা স্লিপ ও কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য:
ব্যাংকের জমা স্লিপ বা রসিদ ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানতের টাকা নিয়ে তা নিজ হিসাবে আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠে শরিফুজ্জামানের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক মো. সরফুদ্দিন এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ তা জিডি হিসেবে নথিভুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠায়।
ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই জালিয়াতির ঘটনায় গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনে মোট ২৫৫ জন ভুক্তভোগী গ্রাহক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রবিবার ১৮৪ জন, সোমবার ৪৬ জন এবং মঙ্গলবার ২৫ জন গ্রাহক তাঁদের খোয়া যাওয়া টাকার হিসাব দিয়েছেন। এসব অভিযোগে সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই ঘটনায় মোট আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ জেলার শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, “আমরা একজনকে অভিযুক্ত করে জিডি করেছি। এই আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের ভেতরের অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক ইসমাঈল হোসেন জানান, ব্যাংক থেকে পাঠানো জিডি গত রোববার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু হবে। যেহেতু এখনো সরাসরি দুর্নীতি মামলা হয়নি, তাই প্রাথমিক অবস্থায় তাঁকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।