সম্পাদকীয়

সংলাপ ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা – রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান

প্রধানমন্ত্রীর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান সময়োপযোগী এবং বাস্তবতার নিরিখে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বৈশ্বিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক অস্থিরতার এই সময়ে কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে একা এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপভিত্তিক সহযোগিতা।

দক্ষিণ এশিয়া পৃথিবীর অন্যতম সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানে জনসংখ্যার আধিক্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি বড় শক্তিও। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ এখনো অনেক পিছিয়ে। রাজনৈতিক অনাস্থা, সীমান্ত জটিলতা এবং পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি এই অঞ্চলের অগ্রযাত্রাকে বারবার থামিয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যথার্থই সেই অনাস্থার জায়গাটিতে হাত দিয়েছেন – সংলাপ।

সংলাপ মানে দুর্বলতা নয়, সংলাপ মানে কূটনৈতিক পরিপক্বতা। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে আলোচনা হলে ছোট-বড় সব রাষ্ট্রই লাভবান হয়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তার ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক সেতুবন্ধনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

এই সহযোগিতা জোরদার করতে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি:

সংযোগ বা কানেক্টিভিটি: সড়ক, রেল, নৌ ও জ্বালানি গ্রিডের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। এতে বাণিজ্য বাড়বে, মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়বে।

অভিন্ন চ্যালেঞ্জে যৌথ উদ্যোগ:জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খাদ্য নিরাপত্তা – এগুলো কোনো দেশের একার সমস্যা নয়। যৌথ গবেষণা ও তথ্য বিনিময় জরুরি।

বাণিজ্য বাধা দূরীকরণ: শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য সহজ করতে হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার অর্থ কারো সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করা নয়, বরং পারস্পরিক স্বার্থকে এক সুতোয় গাঁথা। সংঘাত নয়, সংলাপের মাধ্যমেই দক্ষিণ এশিয়া তার কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে বাস্তবে রূপ দিতে এখন প্রয়োজন আঞ্চলিক ফোরামগুলোকে আরও কার্যকর করা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটানো।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।

 

Related News

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম ফেনী সফর; উন্নয়ন, আবেগ ও সুশাসনের চিত্র : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর, কৃষক কার্ড বিতরণ, মহুরী সেচ প্রকল্প ও ১০০ শয্যার হাসপাতাল ঘোষণা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

জননিরাপত্তা, রাজনৈতিক শৃঙ্খলার পরীক্ষা ও সরকারের দায়বদ্ধতা : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, সরকারের বিব্রতবোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ বেঁধে দেওয়া ঠিক হবে না : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠন, এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার বিধান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্থায়ী রূপরেখা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

খেলাপি ঋণের পাহাড় ও ব্যাংকিং খাতের সংকট: কাগজের শিথিলতা নয়, চাই প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি

বাংলাদেশ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ও সংকটাপন্ন ঋণের সর্বশেষ চিত্র, কাঠামোগত ত্রুটি এবং ব্যাংকিং খাত পুনর্গঠনে চার দফা জরুরি সুপারিশ নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা অনুপ্রবেশকারী ও অপশক্তির ষড়যন্ত্র : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিও ভাঙচুর, হাইব্রিড নেতাদের অপতৎপরতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর বার্তা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

চুয়েট উপাচার্য নিয়োগ বিতর্ক ও সংকট : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান

চুয়েট উপাচার্য অপসারণ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, নতুন ভিসির অনলাইনে যোগদান ও শিক্ষাঙ্গনের অচলাবস্থা নিরসনে করণীয় নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ: বৈশ্বিক মঞ্চে সুশাসন, শান্তি ও টেকসই প্রগতির দৃপ্ত বার্তা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, জলবায়ু তহবিল, রোহিঙ্গা সংকট ও বিশ্বশান্তির ওপর বিশেষ সম্পাদকীয়।

সেন্ট পিটার্সবার্গে বাংলাদেশ-রাশিয়া চুক্তি: সাংস্কৃতিক কূটনীতির নতুন দিগন্ত

সেন্ট পিটার্সবার্গ কালচারাল ফোরামে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সম্পাদকীয়।

Search