জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সময়োপযোগী পদক্ষেপ- রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।
জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক কলাম। লিখেছেন রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
শূন্য আসনে নির্বাচন কমিশন গত ১১ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৭ সেপ্টেম্বর, বাছাই ২৯ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ ৮ অক্টোবর। ২৯ সেপ্টেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ৫ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে চূড়ান্তভাবে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও ভোটের চিত্র
নির্বাচনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁরা হলেন — বিএনপি মনোনীত মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), যিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই এবং জেলা বিএনপির সভাপতি; জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), যিনি ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা); বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)।
আসনটি ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত। মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬৮ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬৬ জন এবং ৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ১৮৫টি কেন্দ্রে।
ফলাফল
রাত পৌনে ৯টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ১৮৫টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।
ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। ব্যবধান ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোট। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে খাদেমুল ইসলাম ৩ হাজার ২৮৮ ভোট, আব্দুল আলীম নিজামী ৮৩৬ ভোট এবং ওমর ফারুক ৪৪৯ ভোট পেয়েছেন।
ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১২৩টি, ভোটের হার ৬৪.৭৭ শতাংশ।
অবাধ ও নিরপেক্ষতার দৃষ্টান্ত
এই নির্বাচন নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন যে, এটি মাগুরা উপনির্বাচনের মতো বিতর্কিত হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আগেই আশ্বাস দিয়েছিলেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। ভোটের দিন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভোটের দিন কিছু বিক্ষিপ্ত অভিযোগ এলেও সার্বিকভাবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। জামায়াত প্রার্থী প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও কমিশন তা আমলে নিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে। ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হয়নি। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম।
নবনির্বাচিত মির্জা ফয়সল আমীনকে অভিনন্দন। একই সাথে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য পরাজিত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ সকল প্রার্থীকেও অভিনন্দন জানাই। ঠাকুরগাঁও-১ এর এই নির্বাচন আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
লেখক : রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।