অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত — ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন বিজয়ী। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের কলাম।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমরা বহু বছর ধরে একটি চিত্র দেখে অভ্যস্ত — নির্বাচন মানেই বিভাজন, জয় মানেই প্রতিশোধ। সেই পুরনো ধারার বিপরীতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে যে দৃশ্যের অবতারণা হলো, তা নিঃসন্দেহে নতুন রাজনীতির ইঙ্গিত দেয়।
ভোটে জিতেই ফুল নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের বাসায় গেলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমীন।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলোয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৫৩ ভোট। প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধান।
এই ব্যবধান ক্ষমতার দম্ভ তৈরি করতে পারতো, কিন্তু মির্জা ফয়সল বেছে নিলেন বিনয়ের পথ। শুক্রবার বেলা ১১টায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীর বাসায় গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, মিষ্টি মুখ করান এবং নির্বাচনি মাঠে ঘটা বিচ্ছিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ উঠলে সুনির্দিষ্ট তালিকা চেয়ে কঠোর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।
এখানেই এই ঘটনার তাৎপর্য। আমরা ভুলে যাইনি, এই আসনটি শূন্য হয়েছিল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায়। মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই হিসেবে মির্জা ফয়সল আমীন শুধু ভোটে জিতে পারিবারিক ও দলীয় মর্যাদা রক্ষা করেননি, ভোট-পরবর্তী আচরণেও তার বড় ভাইয়ের রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন।
জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনও পরাজয়কে ব্যক্তিগত আক্রোশে পরিণত না করে জেলা ও এলাকার যেকোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এটাই গণতন্ত্র — নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু উন্নয়নে ঐক্য থাকবে।
রাজনীতি প্রতিহিংসার নয়, রাজনীতি সহাবস্থানের। মির্জা ফয়সল ও দেলোয়ার হোসেন আজ সেই সহযাত্রারই একটি প্রতীকী ছবি এঁকেছেন। এই ছবিটি শুধু ঠাকুরগাঁওয়েই আটকে না থেকে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ুক — এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন বিজয়ী। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের কলাম।
জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক কলাম। লিখেছেন রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।
জাপানের টোকিওতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সেমিনারে স্বাস্থ্য কূটনীতি ও সহযোগিতার আহ্বান জানান ডা. জুবাইদা রহমান। রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের কলাম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফর ও জাপানের সাথে ৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ নিবন্ধ।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন। পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রবেশ নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।
বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধের নেপথ্য কারণ ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।
খুলনা ও বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর সমাপ্তি, মোংলা বন্দর ও অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ কলাম।
