সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম ইসলামের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁর জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলবিরুনী মীর এ আদেশ দেন। শুনানির দিন গাজী নজরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়নি; তিনি কারাগারে ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে তাঁর আইনজীবী আসামির বয়স্ক ও অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিনের আবেদন করেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ভুক্তভোগী অল্পবয়সী ছিলেন এবং তাঁকে মানসিকভাবে পীড়ন করা হয়েছে। এ কারণে তিনি জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর রাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। একই রাতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই দিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রিমান্ড শেষে ২২ সেপ্টেম্বর মাকছুদা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্যদিকে, গাজী নজরুল ইসলামকে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে মাকছুদা বেগম জামিন পান।
মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলাটির অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।