সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন বিধান শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনার দাবি মামুনুল হক
‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর ১২২এ ও ১২২বি ধারা শরিয়াহর আলোকে পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
রাজনীতি : অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের দেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, যেমন চট্টগ্রাম বন্দর বা স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই বলে মনে করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, “একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।”
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই প্রতিক্রিয়া আসে এমন এক সময়ে, যখন অন্তর্বর্তী সরকার:
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ-পরিচালনা এবং ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনাল পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে।
২০২৬ সালে বাংলাদেশকে এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তারেক রহমান এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশের উদাহরণ রয়েছে, যেখানে সময়সীমা পরিবর্তন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে দর-কষাকষির টেবিলে বসার আগেই বিকল্প বাতিল করে সরকার দেশের সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কিন্তু উত্তরণে ‘যোগ্য’ হওয়া আর ‘প্রস্তুত’ হওয়া এক জিনিস নয়।” এসব সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব জনগণের ওপর পড়বে, অথচ গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটবিহীন সরকার এসব করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বিষয়ে তিনি বলেন, এই দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো রুটিন ওয়ার্কের অংশ নয়, বরং এটি একটি জাতীয় সম্পদ নিয়ে কৌশলগত প্রতিশ্রুতি। “ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে ফেলার এসব সিদ্ধান্ত এমন একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছে, যাদের কোনো ধরনের গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই।”
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, এসব সিদ্ধান্ত সেই সরকারের নেওয়া উচিত, জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহি রয়েছে। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে মানুষের কথা বলার ও পছন্দ বেছে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকার কথা উল্লেখ করেন।