শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুলকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বাগেরহাটের ফকিরহাটে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম মুকুল সংবর্ধিত।
মো: জিয়াউদ্দিন বাবু
বরিশালের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সরফুউ দ্দিন সান্টু বলেছেন আমাদের সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে চলতে হবে। গত ১৭ বছর দেশে অনেক অনিয়ম হয়েছে। সেই সময় আইন শৃঙ্খলা ছিল চরম অবনতি। দেশে রাহাজানি ধর্ষণ বেড়ে গিয়েছিল আওয়ামী লীগের সময়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইন শৃঙ্খলা উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই দেশ আমাদের সকলের। আইন শৃঙ্খলা অবনতি যাতে না ঘটে সে দেশে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে একটি নিষিদ্ধ দল যাতে বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা অবনতির ঘাটে সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে সে দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। যাতে আইন শৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের জন্য কাজ করবার আহ্বান জানান। একসাথে কাজ করতে পারলে দেশের উন্নয়ন হবে। গতকাল রোববার বরিশালের জেলা প্রশাসক এর সম্মেলন কক্ষে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরফুুউদ্দিন সান্টু একথা বলেন। সবায় পুলিশের উদ্যাতন কর্মকর্তা, রেপ, সহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। সবায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার । সবায় জানানো হয়
বরিশাল জেলা এবং মহানগরে এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে অপরাধের সংখ্যা। গত সেপ্টেম্বরে যেখানে মোট ৪৭১টি সেখানে অক্টোবর মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০৭টি। সংখ্যান অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১৩৬টি অপরাধ বেশি সংঘটিত হয়েছে।
এর মধ্যে বেশি অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বরিশাল জেলা পুলিশের আওতাধিন ১০টি থানা এলাকায়। পরিসংখ্যান বলছে, পূর্ববর্তি মাসগুলোতে জেলা পর্যায়ে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। যে অপরাধের মধ্যে রয়েছে খুন, ডাকাতি, দস্যুতা, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদক সংক্রান্ত অপরাধ।
তবে উন্নতি হয়েছে ধর্ষণ পরিস্থিতি। গত সেপ্টেম্বরের মতই ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটেনি বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায়। জেলাও কমেছে ধর্ষণের অভিযোগ। তাছাড়া নারী এবং শিশু নির্যাতনের হারও কমেছে।
রোববার বরিশাল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের পৃথক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে আসে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার।
মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ৪টি থানা এলাকায় মোট ১৪২টি অপরাধ সংঘটিত হয়। পরবর্তী অক্টোবরে অপরাধের সংখ্যা বেড়ে ১৯১টিতে দাঁড়িয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে নগরীত ২টি হত্যাকাণ্ড, একটি দস্যুতা, ৬টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অক্টোবরেও সেই সংখ্যা স্বাভাবিক রয়েছে। ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ, পুলিশ আক্রান্ত, দ্রুত বিচারের মতো কোন ঘটনা গত দুই মাসেই শূন্য।
তবে অক্টোবরে সিঁধের চুরি একটি বেড়েছে ৪টি, চুরি ৬টি থেকে বেড়ে ১৩টি, অস্ত্র আইন একটি থেকে বেড়ে ২টি, মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ ৫১টি থেকে বেড়ে ৬২টিসহ অন্যান্য অপরাধ পূর্বের মাসে যেখানে ৫৫টি ছিল অক্টোবরে তা বেড়ে হয়েছে ৯৪টি।
অন্যদিকে, বরিশাল জেলা পুলিশের অধীন ১০টি থানায় সেপ্টেম্বরে মাসে যেখানে ৩২৯টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল অক্টোবরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৬টিতে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে জেলায় যেখানে ২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, সেখানে অক্টোবরে তা বেড়ে ৪টি হয়েছে। শিশু নির্যাতন একটি বেড়ে ৮টি এবং অন্যান্য অপরাধ ৯২টি থেকে বেড়ে ২৯৪টি হয়েছে।
তবে দস্যুতা, সিঁধেল চুরি, চুরি, নারী নির্যাতন, মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধ এবং ধর্ষণের ঘটনা কমেছে। সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে একটি করে ডাকাতি হয়েছে। ধর্ষণ যেখানের ঘটনা যেখানে ৭টি ছিল তা কমেছে তিনটিতে নেমেছে। নারী নির্যাতনের ঘটনা ২৭টি থেকে কমে ২২টি হয়েছে। চুরি ১২টি থেকে ৭টি, সিঁধের চুরি ১২টি থেকে ৮টি, দস্যুতা ২টি থেকে একটিতে নেমেছে।
অন্যদিকে- গত সেপ্টেম্বরের থেকে অক্টোবরে অভিযান কমেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। এ কারণে আটক, মামলা, মোবাইল কোর্ট সবকিছুই কমেছে। তবে মাদকদ্রব্য উদ্ধার বেড়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে যেখানে ১৫০টি অভিযান হয়েছে সেখানে অক্টোবরে হয়েছে ১৪১টি। আগের মাসের মতাই ২৪টি মামলা হয়েছে অক্টোবরে। তবে পূর্বের মাসে মোবাইল কোর্ট ও নিয়মিতসহ মোট মামলা ছিল ৫৭টি। অক্টোবরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫০ টিতে।
অবশ্য অভিযান কম হলেও মাদকদ্রব্যসহ অন্যান্য অবৈধ মালামাল জব্দের সংখ্যা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে যেখানে ৬টি কেজি ২০৫ গ্রাম গাঁজা, ১৪৩ পিস ইয়বা, ২৪ এ্যাম্পুল জি-মরফিন এবং ২১ এ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশন উদ্ধার হয়েছে, সেখানে অক্টোবরে ৯১ কেজি ৩৩০ গ্রাম গাঁজা, ৪৮৬ পিস ইয়াবা, ১০ এ্যাম্পুল ইজিয়াম ইনজেকশন, মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, ১টি মোটরসাইকেল এবং ১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।সবায় জেলা প্রশাসক ডেঙ্গু প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেবার জন্য সব কষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। সবায় মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করা হয়