এপস্টেইনের সাথে সম্পর্ক অস্বীকার জিজি হাদিদের
জেফরি এপস্টেইন নথিতে নাম আসা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন জিজি হাদিদ। এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে একে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা বললেন সুপারমডেল।
বিনোদন ও সংস্কৃতি ডেস্ক: দাদি রানী হামিদ দেশের খ্যাতনামা দাবাড়ু, আর বাবা কায়সার হামিদ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কিংবদন্তি অধিনায়ক। এমন ক্রীড়ানুরাগী ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্ম নিয়েও কারিনা কায়সার নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন একজন প্রতিভাবান কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে। তবে অকালমৃত্যুর পর তিনি আজ সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে বেশি স্মৃত হচ্ছেন ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একজন অকুতোভয় কর্মী হিসেবে।
লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে গতকাল শুক্রবার (১৫ মে ২০২৬) ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাত্র ৩০ বছর বয়সে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও জীবনঘনিষ্ঠ কনটেন্ট তৈরি করে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হওয়া কারিনা কায়সার ধীরে ধীরে ওটিটি (OTT) ও নাটকের জগতেও নিজের অবস্থান শক্ত করছিলেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে, তখন কারিনাও নিজের ক্যামেরা আর কণ্ঠকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী হাতিয়ারে পরিণত করেন।
তাঁর এই অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। জুলাই আন্দোলনের কর্মীদের ফেসবুক ওয়ালগুলো যেন আজ কারিনার জন্য এক একটি আবেগঘন এপিটাফে পরিণত হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল ফেসবুকে কারিনাকে স্মরণ করে লিখেছেন—
“আমরা জুলাইয়ের পরিবার। দেখা হয়নি, পরিচয় নেই, রক্তের সম্পর্ক নেই, তবু আমরা একটা পরিবার… মানুষের জীবন আর সর্বস্ব লুটে খাওয়া পিশাচের বিরুদ্ধে জীবনপণ লড়াইয়ে সে ছিল আমাদের সঙ্গে। মানুষের মুক্তির জন্য। মানুষই তাই মনে রাখবে তাকে। স্নেহে, ভালোবাসায়; দোয়ায়, প্রার্থনায়। লাল জুলাইয়ের রঙ। কারিনা জুলাইয়ের নাম।”
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম লিখেছেন—
“জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্মম গণহত্যার বিরুদ্ধে কারিনা কায়সার ছিলেন এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন—
“কঠিন ও দমনমূলক সময়েও তিনি গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে আন্দোলনের শক্তিশালী অংশে পরিণত করতে অবদান রেখেছেন। তাঁর এই চলে যাওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
এনসিপি-র মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ কারিনার আন্দোলনের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “এ পৃথিবী একবার পায় তারে, পায় নাকো আর… ভালো থেকো, জুলাইয়ের মানুষ, আমাদের মানুষ।” একই দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা সারজিস আলম প্রার্থনা করে লিখেছেন, “হে আল্লাহ, ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো আমাদের বোনকে আপনি কবুল করে নিন।”
বন্ধুদের মানসিক ক্ষত ও শোক:
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু কারিনার বন্ধুদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছেন, এই আকস্মিক মৃত্যু তাঁর বন্ধু সার্কেলের জন্য এক বিরাট মানসিক ধাক্কা। তিনি কারিনার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
২০২৪ সালের ৩ আগস্ট, আন্দোলনের চরম দমনপীড়নের মধ্যেও রাজপথে কারিনা কায়সারের সেই সাহসী ও আপসহীন উপস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একজন সফল সংস্কৃতিকর্মী এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার এক সাহসী নারী হিসেবে কারিনা কায়সার চিরকাল বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে।