মার্কিন ও নাইজেরীয় সেনার যৌথ অভিযান: আইএসের বৈশ্বিক সেকেন্ড-ইন-কমান্ড নিহত
নাইজেরিয়ায় মার্কিন ও নাইজেরীয় বাহিনীর সুপরিকল্পিত অভিযানে নিহত হলেন আইএসের বৈশ্বিক সেকেন্ড-ইন-কমান্ড আবু-বিলাল আল-মিনুকি। নিশ্চিত করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীন সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই প্রত্যাবর্তনের পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মাসে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটিয়ে ইরানকে সমঝোতায় বাধ্য করতে অথবা পুরোপুরি সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নতুন নামে শুরু করার সব ধরনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছেন ট্রাম্পের শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টারা।
গতকাল শুক্রবার বেইজিং থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানে দেশে ফেরার পথে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি তার কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। ট্রাম্প বলেন, “আমি এটি দেখেছি। প্রথম বাক্যটিই যদি আমার পছন্দ না হয়, তবে আমি তা সরাসরি ফেলে দিই।”
সফরকালে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন। তেহরানের কৌশলগত অংশীদার চীন এই জলপথের তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল হলেও, ট্রাম্প সি চিন পিংকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বলেননি বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা চেষ্টা করছেন ইরানকে বুঝিয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলানোর, যাতে ট্রাম্প সন্দিহান মার্কিন ভোটারদের কাছে এই ব্যয়বহুল সামরিক অভিযানকে ‘সফল’ বলে দাবি করতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য জোরালো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এটিকে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই সপ্তাহে কংগ্রেসে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় বলেন, “প্রয়োজন হলে যুদ্ধ আরও তীব্র করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”
সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি আবারও যুদ্ধের সবুজ সংকেত দেন, তবে মার্কিন বাহিনী দুটি প্রধান বিকল্প নিয়ে এগোবে:
আমেরিকার এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে লিখেছেন, “যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত। ভুল কৌশল ও ভুল সিদ্ধান্ত সব সময় ভুল ফলাফল বয়ে আনে। আমরা সব ধরনের বিকল্পের জন্য প্রস্তুত; তারা বিস্মিত হবে।”
পেন্টাগন এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা বেশ কঠিন হতে পারে। মার্কিন বাহিনী বিগত হামলায় ইরানের বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ও গোলাবারুদ ডিপো ধ্বংস করতে পারলেও, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য বলছে—ইরান হরমুজ প্রণালি বরাবর তাদের ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিরই কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে, যা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও তেল ট্যাংকার চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হুমকি।
জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সিনেটের প্রতিরক্ষা উপকমিটিকে জানিয়েছেন, নির্দেশ পাওয়ামাত্রই ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করতে ৫০ হাজারের বেশি সেনা, ২টি বিমানবাহী রণতরি ও নৌবাহিনীর এক ডজনের বেশি ডেস্ট্রয়ার পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প কি আলোচনার টেবিলে ইরানকে বশ করতে পারেন, নাকি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেন।