মহররমের চাঁদ দেখতে আজ বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি, জানা যাবে আশুরার তারিখ
হিজরি নতুন বছর ১৪৪৮ সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র আশুরার তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বিশেষ অভিযানে টঙ্গীর একটি ভাড়াটিয়া ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টঙ্গীর উত্তর আউচপাড়া এলাকার আক্কেল আলী সড়কের বাবর গাজীর বাসার নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে এই সফল অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া দুই মাদক ব্যবসায়ী সম্পর্কে আপন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গীতে আস্তানা গেড়েছিল। তারা হলেন: ১. আনোয়ার হোসেন (৩৬): নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার চর দিঘলদী গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে। ২. শাওন (২৬): একই এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান অভিযানের রোমাঞ্চকর বিবরণ দিয়ে জানান, উত্তর আউচপাড়ার ওই বাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদকের পাইকারি বেচাকেনা চলছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ গত কয়েকদিন ধরে বাড়িটির ওপর কড়া নজরদারি রাখছিল। সোমবার রাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দল ফ্ল্যাটটিতে হানা দেয়।
এসআই মেহেদী বলেন, “অভিযানকালে আমরা ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করতেই তীব্র ইয়াবার গন্ধ পাই। এতে আমাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। একপর্যায়ে ঘরটিতে তল্লাশি চালিয়ে একটি কক্ষ থেকে ১০ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৫৮ লাখ টাকা এবং মাদক ব্যবসায় ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে তাঁরাও দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।”
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা মূলত সংঘবদ্ধ টেকনাফ-কক্সবাজার রুটের মাদক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত। তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার সীমান্ত এলাকা থেকে বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়ে এসে টঙ্গী, চৌরাস্তা ও ঢাকার আশেপাশের স্থানীয় খুচরা মাদক কারবারিদের হাতে পৌঁছে দিত। এই ফ্ল্যাটটিকে তারা নিরাপদ ‘মাদক ও ক্যাশ গোডাউন’ হিসেবে ব্যবহার করছিল।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা অত্যন্ত চতুর এবং সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের সক্রিয় সদস্য। টঙ্গী অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করতে এই অভিযান একটি বড় সাফল্য। তিনি বলেন, “তাদের এই বিশাল নেটওয়ার্কের সাথে আর কারা কারা জড়িত, কারাই বা এই টাকার নেপথ্য জোগানদাতা—তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।