রাজবাড়ীতে কলেজছাত্র আসাদুলকে হত্যার পর পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দিল পাওনাদার
রাজবাড়ীর কালুখালীতে ৬৮ হাজার টাকার জন্য কলেজছাত্র ও জামায়াত কর্মী আসাদুলকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৩।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে যশোরের কেশবপুরে। একজন কট্টর আর্জেন্টিনা সমর্থককে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে ফেসবুকে প্রচার করার অভিযোগে কেশবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী যুবক এই ঘটনাকে চরম মানহানিকর আখ্যা দিয়ে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
যশোরের কেশবপুর থানায় এই লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেছেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের মূল গ্রামের বাসিন্দা অহিদুর রহমান ওরফে অন্তু, যিনি স্থানীয় রাজনীতিতে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অহিদুরের আসল ছবির ওপর ব্রাজিলের জার্সি বসিয়ে তাঁকে দলটির সমর্থক হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।
ফেসবুকে ‘রাসেল বাবু’ নামের একটি পেজ থেকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের বিকৃত ছবি পোস্ট করা হচ্ছিল।
ভুক্তভোগী অহিদুর রহমান জানান, তিনি ব্যক্তিগত জীবনে আর্জেন্টিনার একজন পাঁড় ভক্ত হিসেবে পরিচিত। অথচ এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁকে ব্রাজিলের সমর্থক বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় তিনি চরমভাবে অপমানিত বোধ করছেন।
এই ঘটনাটি তাঁর ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে। সম্পর্কের দোহাই দিয়ে এই ধরনের মানহানিকর কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না বলেই তিনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে অভিযুক্ত রাসেল বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করে জানান, অহিদুর রহমান সম্পর্কে তাঁর মামা হন। রাসেল নিজে ব্রাজিলের একজন কঠিন সমর্থক হওয়ায় মজার ছলে এটি করেছেন এবং বিষয়টি এত জটিলভাবে নেওয়ার কিছু নেই।
তবে অহিদুর এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখানে সম্পর্কের কোনো স্থান নেই এবং এই সাইবার বুলিং ও প্রযুক্তির অপব্যবহারকে তিনি কোনোভাবেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোকসানা খাতুন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। সাইবার প্রযুক্তির অপব্যবহারের এই অভিযোগটি খতিয়ে দেখে সত্যতা প্রমাণিত হলে বিবাদীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফুটবল উন্মাদনাকে কেন্দ্র করে এআই প্রযুক্তির এমন নেতিবাচক ব্যবহার স্থানীয় নেটিজেনদের মধ্যেও বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।