আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটার উইন্ডোজ ঝুঁকিপূর্ণ দাবি জুনাইদ আহমেদ পলকের
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসের উইন্ডোজ ঝুঁকিপূর্ণ দাবি সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের। অরিজিনাল সফটওয়্যার ব্যবহারের নির্দেশ আদালতের।
ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স), আপিল ও জেল আপিলের ওপর হাইকোর্টে আসামিদের আপিল শুনানিতে পেপারবুক (মামলার যাবতীয় বৃত্তান্ত) উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তৃতীয় দিনের মতো এই পেপারবুক উপস্থাপন গ্রহণ করেন। আদালত আগামী রোববার এই চাঞ্চল্যকর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
এর আগে দেশের বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন। সেই বেঞ্চটি ১৪ জুন থেকে কার্যক্রম শুরু করে এবং গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে সরাসরি নুসরাত হত্যা মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি গ্রহণ শুরু করে।
আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশরাফুল আলম, মোছা. রোহানী সিদ্দীকা ও মাহবুবা তাসনিম আঁখি।
শুনানি শেষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক থেকে সাক্ষ্য উপস্থাপন করে যাচ্ছে। মামলায় মোট ৮৭ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। আগামী রোববার পুনরায় এই কার্যক্রম শুরু হবে।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের পরিবার মামলা দায়ের করলে পুলিশ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তীতে মামলা তুলে নিতে নুসরাতের ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় ওই বছরের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার কেন্দ্র চলাকালে কৌশলে নুসরাতকে মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে বর্বরোচিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর ১০ এপ্রিল নুসরাত মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন।
ঘটনার মাত্র সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ মোট ১৬ জন আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা ‘১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে কারাগারে থাকা আসামিরাও সাজা মওকুফ চেয়ে পৃথক আপিল ও জেল আপিল দায়ের করেন। সব আবেদন একযোগে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাইকোর্টে এই শুনানি চলছে।