শব্দ ও শেকড়ের কারিগর কবি আল মুজাহিদীর প্রয়াণ: বাংলা সাহিত্যে একটি যুগের অবসান
বাংলা সাহিত্যের ষাটের দশকের বরেণ্য কবি, গবেষক ও দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক সাহিত্য সম্পাদক আল মুজাহিদী রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন।
সম্পাদকীয়: বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যাত্রার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর নিজের প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে গতকাল রবিবার (২১ জুন, ২০২৬) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। কুয়ালালামপুরে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের নতুন সরকার প্রধানকে জমকালো লালগালিচা সংবর্ধনা এবং সুসজ্জিত বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষে আন্তরিক স্বাগত জানান দেশটির ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান।
কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থল ‘শাংগ্রি লা’ হোটেল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫০ মিনিটের সড়কপথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সাজানো হয়, যা কুয়ালালামপুরের পক্ষ থেকে ঢাকাকে দেওয়া এক অনন্য কূটনৈতিক সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের গন্তব্য হিসেবে মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি দূরদর্শী অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য সহযোগী দেশ হলো বাংলাদেশ। তবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পাল্লা এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়ার দিকেই ভারী রয়েছে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিশেষ করে বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে আরও স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এক সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয় যে, এবারের সফরে জনশক্তি রপ্তানি ও অভিবাসন খাতের সংস্কার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ সোমবার সকালে কুয়ালালামপুরের পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধিদল পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই সফরে ঢাকা ও কুয়ালালামপুরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা বাড়াতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
এ ছাড়া জ্বালানি ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে সফরে যুক্ত রয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নতুন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুশাসনভিত্তিক কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার যে প্রত্যয় বর্তমান সরকার ব্যক্ত করেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই কুয়ালালামপুর সফর তার একটি সফল ও কার্যকর বাস্তব রূপ হতে চলেছে।
দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের এই শীর্ষ বৈঠক এশীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত থাকবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।