ব্রাজিলের হার ও ট্রল সইতে না পেরে কুষ্টিয়ায় যুবকের আত্মহত্যা | দৈনিক শব্দ মিছিল
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রাজিল ফুটবল দলের পরাজয় এবং প্রতিপক্ষ সমর্থকদের অনবরত নেতিবাচক ট্রল ও উপহাস সইতে না পেরে রতন নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন।
একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীর ফুসফুস এবং সৌন্দর্য হলো তার অভ্যন্তরীণ জলাশয় ও লেকসমূহ। কিন্তু রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতনের বুক চিরে বয়ে যাওয়া লেকগুলোর বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত রুগ্ণ ও শোচনীয়। আজ সোমবার (৬ জুলাই, ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে গুলশান-বনানী-বারিধারা-নিকেতন এলাকার ভবনগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন সংযোগ ব্যবস্থা যাচাই এবং লেককে দূষণমুক্ত করার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেকগুলোর পরিবেশ সুরক্ষা, পানি দূষণ রোধ এবং একটি আধুনিক সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, লেকের বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন এবং রাজউকের মতো দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে কোনো ধরনের রশি টানাটানি না করে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সরকারপ্রধান। প্রধানমন্ত্রীর এই সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব নির্দেশনাকে আমরা জানাই আন্তরিক সাধুবাদ।
রাজধানীর এই লেকগুলোর দূষণের নেপথ্যে যে বাস্তব চিত্রটি সভায় উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এক অর্থে লজ্জাজনক। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও অভিজাত এই চার এলাকার শত শত বহুতল বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনের পয়ঃবর্জ্য (Sewage) সরাসরি কোনো শোধন ছাড়াই অবৈধ লাইনের মাধ্যমে লেকের পানিতে গিয়ে পড়ছে। ডেসার বা ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনের সুনির্দিষ্ট নিষ্কাশন লাইন থাকা সত্ত্বেও, অনেক প্রভাবশালী ভবন মালিক ও আবাসন ব্যবসায়ী আইন অমান্য করে লেকগুলোকে উন্মুক্ত সেপটিক ট্যাংকে পরিণত করেছেন। এর ফলে লেকের পানি কুচকুচে কালো রঙ ধারণ করে পচে গেছে, ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ এবং ধ্বংস হচ্ছে জলজ ইকোসিস্টেম। অভিজাত এলাকার বাসিন্দাদের এই চরম পরিবেশবিরোধী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, লেক দূষণমুক্ত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার প্রথম ও প্রধান ধাপই হলো লেকে পড়া এই অবৈধ পয়ঃবর্জ্যের সংযোগগুলো চিরতরে বিচ্ছিন্ন করা।
আমরা মনে করি, কেবল পরিকল্পনা বা আশ্বাসের বৃত্তে আটকে না থেকে এখনই মাঠপর্যায়ে কঠোর ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার সময় এসেছে। ঢাকার এই ফুসফুসগুলোকে বাঁচাতে হলে কয়েকটি পদক্ষেপ অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং রাজউকের যৌথ উদ্যোগে গুলশান-বনানী-বারিধারার প্রতিটি ভবনে বিশেষ চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। যেসব ভবনের সুয়ারেজ লাইন সরাসরি লেকে যুক্ত পাওয়া যাবে, তাদের সংযোগ অবিলম্বে ক্র্যাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিলগালা করে দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ভবন মালিকদের বিপুল অংকের আর্থিক জরিমানাসহ আইনানুগ শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই লেকগুলোর চারপাশের বর্জ্য পানিকে পুনঃব্যবহারযোগ্য করতে আধুনিক ‘সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ বা এসটিপি স্থাপন করা জরুরি। বিগত বহুবছর ধরে জমে থাকা লেকের তলদেশের বিষাক্ত পলি ও প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করতে হবে, যাতে লেকের পানি ধারণক্ষমতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে আসে।
গুলশান-বনানী-বারিধারা সোসাইটি এবং নিকেতন কল্যাণ সমিতিকে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন করতে হবে যেন কোনো ধরনের গৃহস্থালি বা প্লাস্টিক বর্জ্য লেকের পানিতে ফেলা না হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনার পর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা গাফিলতির কারণে এই মহতী উদ্যোগ যেন ঝুলে না পড়ে। রাজধানী ঢাকাকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকের এই পুনরুজ্জীবন প্রকল্প একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।