রাজধানীসহ দেশজুড়ে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত
রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন দৈনিক শব্দমিছিলে।
মো: জিয়া উদ্দিন বাবু, বরিশাল ব্যুরো:বরিশালে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা। একের পর এক ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসলেও অপরাধ দমনে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকরা।
বরিশাল জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—এই ছয় মাসে জেলায় মোট ৭৯ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ১১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১০ জন, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ১৬ জন, মে মাসে সর্বোচ্চ ২০ জন এবং জুনে ১৪ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হন।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্চের তুলনায় এপ্রিলে ধর্ষণের ঘটনা দ্বিগুণের কাছাকাছি বেড়েছে। মে মাসে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। জুনে কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত ঘটনাও জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।
গত ১০ জুলাই নগরীর খোন্তাখালী এলাকার একটি মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ সময় তার কানের স্বর্ণের দুলও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা হলে পুলিশ ও র্যাব-৮ যৌথ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. রুহুল আমিন ও মো. সাঈদকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়া ২০ জুলাই মুলাদী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা জাহিদ খলিফাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে ২৬ ফেব্রুয়ারি বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির অভিযোগে বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান প্রবণতার প্রতিফলন। দ্রুত বিচার, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
বরিশাল জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দীন বলেন,
“ধর্ষণ শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীর মানবিক সংকট। অপরাধীরা যদি দ্রুত বিচারের আওতায় না আসে, তাহলে তাদের মধ্যে ভয় কাজ করবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজকে সচেতনতার ভূমিকা পালন করতে হবে।”
বরিশাল মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি বলেন,
“নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠন—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা, মানসিক কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নাগরিক সমাজের দাবি, শুধু গ্রেপ্তার নয়—দ্রুত তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, পারিবারিক নজরদারি, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা সময়ের দাবি।