রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, নব দিগন্তের সূচনা ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রত্যাশা : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসরণে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
এই দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। দায়িত্ব গ্রহণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা।
হাফিজ উদ্দিন আহমদের মতো একজন বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের হাতে রাষ্ট্রের অভিভাবকত্ব ন্যস্ত হওয়া বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত ইতিবাচক এবং স্বস্তিদায়ক। বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যেখানে সুশাসন, সাম্য ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে দেশের সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট কল্যাণকর প্রত্যাশা রয়েছে:
রাষ্ট্রপতি হলেন সমগ্র জাতির ঐক্যের প্রতীক। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি দল-মত বা মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখবেন এবং সংবিধানের মূল চেতনাকে সমুন্নত রাখবেন—এটিই দেশবাসীর প্রধানতম প্রত্যাশা।
যদিও আমাদের শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত, তবুও রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে তাঁর নৈতিক প্রভাব অপরিসীম। দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং সাম্প্রতিক বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় গঠনমূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করতে পারেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জাতীয় সংসদ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় বজায় রেখে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিশ্চিত করার পেছনে হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রজ্ঞা ও দিকনির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাষ্ট্রের সর্বস্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা ও মেধা বিকাশে সরকারি উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা রাষ্ট্রপতির অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি এমন এক গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর প্রজ্ঞা, সততা ও সুসংহত নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে তিনি তাঁর এই সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এক সঠিক ও টেকসই সাংবিধানিক সুশাসনের ধারায় এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং রাষ্ট্রীয় এই গুরুদায়িত্ব পালনে সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।