বিশেষ প্রতিনিধি: সরকারের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের কেউ কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান সম্পাদিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও ‘আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, “মানুষের অন্ধকার দূর করতে বই বাতি বা প্রদীপের মতো ভূমিকা পালন করে। বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্ট। এই পাসপোর্ট অর্জন করতে পারলে মনের পাশাপাশি বহির্জগতের অন্ধকারও দূর করা সম্ভব।”
সরকারের পাঁচ মাসের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারকে নিয়ে নানা ধরনের কথা বলা হচ্ছে। তবে গত পাঁচ মাসে সরকার কী কী করেছে, তার পরিসংখ্যানসহ বিভিন্ন ঘটনা বইটিতে সংকলিত হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, সামনে হেলথ কার্ড চালু এবং গ্যাস সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত চিত্র বইটিতে উঠে এসেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে ঘুরে দাঁড় করাতে পাঁচ মাস যথেষ্ট নয়। আগের সরকারের দুর্নীতি ও বিশ্ববাজারের মন্দার কারণে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সংকট মোকাবিলা করেই বর্তমান সরকারকে এগোতে হচ্ছে।” তিনি সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা পাঁচ মাসের সরকারকে ধ্বংস করতে তৎপর, তারা দেশের স্বার্থে কথা বলছেন না।
গ্রন্থের লেখক ও সম্পাদক, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, “রাষ্ট্রচিন্তা কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত পাঁচ মাসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রযুক্তি ও কূটনৈতিক খাতে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, এই গ্রন্থটি তার একটি বস্তুনিষ্ঠ প্রামাণ্য দলিল।” তিনি বইটি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম এর সভাপতি জনাব মুহাম্মদ সাইদুর রহমান। এবং অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারাও বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং বইটির বহুল প্রচার কামনা করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্ট্যালিন, জিয়া মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি আফরোজা বেগম জলিসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী ব্যক্তিবর্গ।