রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অবৈধ সার মজুত
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অনুমোদিত সীমার অতিরিক্ত সার মজুত রাখার অভিযোগে সার ডিলার সোলাইমান পাটোয়ারীকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত প্রায় ৩ কোটি টাকার কাপড়ের রোলভর্তি একটি কনটেইনার রহস্যজনকভাবে গায়েবের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মোর্শেদ আলম (৩১) ও মো. সাইদুর রহমান (৫১) নামের দুই সিঅ্যান্ডএফ জেটি সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বন্দর থানার ওসি জানান, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মূল্যবান কাপড়ের কনটেইনার চুরির এই ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই চুরির নেপথ্য রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত অন্যদের খুঁজে বের করতে আসামিদের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি মিললে রিমান্ডে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আমদানিকারকের সম্পূর্ণ অগোচরে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমদানিকৃত কাপড়ভর্তি কনটেইনারটি বন্দর থেকে অবৈধভাবে খালাস করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গত ১১ আগস্ট কনটেইনারটি বন্দর থেকে বের করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত মোর্শেদ আলম চট্টগ্রামের পটিয়া থানার জিরি ইউনিয়নের এবং মো. সাইদুর রহমান পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা উভয়েই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার ‘প্যারামাউন্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানে জেটি সরকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ নামের একটি জাহাজে করে ৪০ ফুটের একটি এফসিএল কনটেইনারে (নম্বর- এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭) সাভারের কালিয়াকৈরের রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘গোল্ড স্টার গার্মেন্টস লিমিটেড’-এর ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স বা কাপড়ের রোল এসে পৌঁছায়।
আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘এসআরএস সিন্ডিকেট’ পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরবর্তীতে কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় রাজস্ব পরিশোধ করে গত ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটিইনারটি খালাস করতে গেলে বন্দর কর্তৃপক্ষ তা ডেলিভারি দিতে ব্যর্থ হয়। ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুঁজেও কনটেইনারটির কোনো হদিস মেলেনি।
ঘটনাটি আগস্ট মাসের হলেও প্রথমদিকে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে এসআরএস সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুর রহমান বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং বন্দরজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রায় ৩ কোটি টাকার এই কাপড় সময়মতো কারখানায় পৌঁছাতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্ট পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি।