চীনের মাটিতে উড়ন্ত ফর্মে বাংলাদেশ
অনূর্ধ্ব-২০ জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে স্বাগতিক চীনকে ৬-০ গোলে হারিয়ে টানা চতুর্থ জয়ে গ্রুপ পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নারী হকি দল।
স্পোর্টস: ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার সখ্যতা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার অন্ত নেই। তবে এই সুসম্পর্ককে কেন্দ্র করে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি ভঙ্গের অভিযোগে ফেঁসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছেন ইনফান্তিনো। তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ এনে ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রায় ১ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংবলিত একটি বিশাল জনমত।
গতকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
আসন্ন বিশ্বকাপ শুরুর প্রাক্কালে ফিফার প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘রিবুট ফিফা’ নামের একটি অভিনব প্রচারণা শুরু হয়। এটিকে সংস্থাটির ইতিহাসে অন্যতম বড় অভিযোগের মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে এই প্রচারণার পরিধি আরও বাড়িয়ে টুর্নামেন্টে ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পরবর্তীতে বাতিল হওয়া ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্পকেও এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
অধিকারকর্মী সংগঠন ‘ফেয়ার স্কয়ার’-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই প্রচারণায় ইতিমধ্যে ১ লাখ মানুষ নিজেদের নাম ও সমর্থন যুক্ত করেছেন। গতকাল ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে ফেয়ার স্কয়ারের পক্ষ থেকে কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে একই ধরনের একটি অভিযোগ দেওয়া হলেও নৈতিকতা কমিটি তাতে সাড়া দেয়নি। তবে নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্য এই অভিযোগের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন।
ফেয়ার স্কয়ারের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইনফান্তিনো অন্তত আটটি ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুনজরে আসার জন্য নিজের পদের আনুগত্যের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন।
ফিফা সভাপতির পদে পুনরায় নির্বাচন করার ঘোষণা দেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই অভিযোগ ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। উয়েফা (UEFA), এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এবং কনকাকাফ (Concacaf)—এই তিন বড় মহাদেশীয় সংস্থা ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর বিভিন্ন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছে। এমনকি উয়েফার পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে এই আইনি ও নৈতিক চাপ জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে ঘিরে ফিফার অন্দরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে।