১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে বইছে আনন্দের জোয়ার
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ফেনী সফরকে কেন্দ্র করে বইছে আনন্দের জোয়ার। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি ফেনীবাসীর।
ঢাকা: ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হলে সমাজে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ ও বিবাহসংক্রান্ত অন্যান্য জালিয়াতি রোধ করা অনেকটাই সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এর ফলে সাধারণ মানুষ খুব দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলেও জানান তিনি।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগের আওতাধীন ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ব্র্যাকের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য।” এ সময় তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে এবং তাদের এই অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে এই উদ্যোগে কাজে লাগানো হবে।
প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প) চালু করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলো হলো—
কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ)
ঝিনাইগাতী (শেরপুর)
সদর (কুড়িগ্রাম)
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
সদর (নড়াইল)
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
সদর (সিলেট)
চকরিয়া (কক্সবাজার)
সদর (কিশোরগঞ্জ)
এই প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে বয়স ও পরিচয় সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে গোপনে বিয়ে, বহুবিবাহ এবং বয়স বাড়িয়ে বা কমিয়ে জালিয়াতি করার সুযোগ থাকবে না। বিবাহ ও তালাকের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংরক্ষণ এবং খুব দ্রুত ডিজিটাল সনদ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়ার পাশাপাশি জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই (API) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে এবং বায়োমেট্রিক ডিভাইসও পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। পাইলট এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে এবং চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক এবং ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।