আশির দশকের নস্টালজিতে মজেছে ঢাকাই শোবিজের তারকারা
এআই-এর সাহায্যে আশির দশকের রেট্রো লুকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছেন পূর্ণিমা, তমা মির্জা, মিম, সাফা কবির ও তৌসিফ মাহবুবের মতো জনপ্রিয় তারকারা।
বিনোদন: বাংলাদেশ সফরে এসে গরুর মাংস নিজের অন্যতম পছন্দের খাবার—এমন মন্তব্য করে ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ভারতীয় নেটিজেনদের একাংশের তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে যেমন সমালোচনা ও কটূক্তি চলছে, তেমনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও হুশিয়ারি দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
সম্প্রতি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সফরকালে এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের খাবার ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। গরম ভাতের সঙ্গে পদ্মার ইলিশের তেল ও ভাজা মাছের পাশাপাশি তিনি জানান যে গরুর মাংস তাঁর অত্যন্ত পছন্দের খাবার এবং সেদিন রাতেও তা খাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
সাক্ষাৎকারটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় নেটিজেনদের একটি অংশ তাঁকে নিয়ে ট্রোল শুরু করে। একজন হিন্দু অভিনেতা হয়ে প্রকাশ্যে গরুর মাংস পছন্দের কথা বলায় অনেকেই তাঁকে কটাক্ষ করেন। এমনকি তাঁকে বাংলাদেশেই থেকে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কলকাতায় ফিরলে হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। তবে এর বিপরীতে অনেক সচেতন নেটিজেন তাঁর ব্যক্তিগত খাদ্যপছন্দের স্বাধীনতার পক্ষেও জোরালো অবস্থান নেন।
পরবর্তীতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজকাল ডট ইন’-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী নিজের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরে বলেন, “আমার পেট, আমার মন, আমার হাত আর যে খাবারটা খাব তার টাকাটাও আমার! সুতরাং আমি কী খাব, সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দেওয়ার কে?”
বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে অভিনেতা জানান, এক বোনের জন্মদিনের আমন্ত্রণে গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং কাজ শেষে ৫ সেপ্টেম্বরই কলকাতায় ফিরে যান। এ দেশের মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় তিনি ভীষণ মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়ে তিনি চুপ থাকেননি। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে তিনি আর বেশি কিছু বলতে চাননি।
উল্লেখ্য, খাদ্যাভ্যাস ও গরুর মাংস নিয়ে মন্তব্য করে ভারতীয় তারকাদের বিতর্কে জড়ানোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর ও কলকাতার জনপ্রিয় সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ও অনুরূপ মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছিলেন।