রাজাউল্লাহ ৮১ রান সাইম আইয়ুব সিপিএল
এজবাস্টনে রাজাউল্লাহর ৮১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে টেস্ট ৪র্থ দিনে গড়ালে বার্বাডোজের বিমান মিস করেন সাইম আইয়ুব। সিপিএল থেকে বিদায় জ্যামাইকার।
স্পোর্টস: ঢাকার পল্টনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বিকল, চারদেয়ালের মাঝে প্রচণ্ড গরম। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ব্যাট-বলের তুমুল টুং-টাং শব্দে মুখর পুরো ভেন্যু। চলমান ‘উন্মুক্ত প্রাইজমানি র্যাঙ্কিং টেবিল টেনিস টুর্নামেন্টে’ সারা দেশের ৩৯৩ জন অ্যাথলেটের মধ্যে পৃথকভাবে আলাদা নজর কাড়ছেন রংপুর টেবিল টেনিস সংস্থার খেলোয়াড়েরা।
১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬৭ বছর পর উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন সংস্থাই এখন বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের (টিটি) প্রধান হৃৎস্পন্দনে পরিণত হয়েছে। সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মোস্তফা বিল্লাহর মতে, “সাফল্যের নিরিখে হয়তো নড়াইল আগে ছিল, কিন্তু টিটি-চর্চায় এখন নড়াইলকে টপকে দেশের ১ নম্বর উর্বর ভূমি রংপুর।”
১৯৮৬ সালের দিকে যশোর ছিল দেশের টেবিল টেনিসের ‘রাজধানী’। নব্বইয়ের দশকে সে রাজত্ব দখল করে নড়াইল। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একক ক্যাটাগরিতে ২২ বার সেরা হওয়ার নজির রয়েছে নড়াইলের। তবে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও তৃণমূল উদ্যোগের অভাবে সেই সাফল্য এখন ম্লান। এবারের উন্মুক্ত র্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টে নড়াইল থেকে এসেছে মাত্র ৩ জন প্রতিযোগী (যার মধ্যে ২ জন পুরুষ ও ১ জন নারী)।
বিপরীতে রংপুরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই টুর্নামেন্টে বিকেএসপির সর্বোচ্চ ৪২ জন খেলোয়াড়ের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩২ জন প্রতিনিধি পাঠিয়েছে রংপুর টিটি সংস্থা।
টুর্নামেন্টে জেলা ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ চিত্র:
বিকেএসপি ৪২ জন খেলোয়াড় (সর্বোচ্চ)
রংপুর টিটি সংস্থা ৩২ জন খেলোয়াড় (২য় সর্বোচ্চ)
কুমিল্লা ১০ জন খুদে খেলোয়াড়
নড়াইল জেলা ৩ জন খেলোয়াড়
দিনাজপুর ও গাইবান্ধা ১ জন করে খেলোয়াড়
ঐতিহ্য ও বকেয়া বিলের সংকট ঠেলে এগিয়ে চলা
সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন প্রয়াত আকমল তাজ (সাবেক জাতীয় টিটি খেলোয়াড় কামরুন নাহার ডানার চাচাতো ভাই)। রংপুরের নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ায় প্রায় ২৪ শতক জায়গায় একতলা ভবনে ৪টি টেবিলে সপ্তাহের সাত দিনই অনুশীলন চালান ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী। ৫ জন কোচের তত্ত্বাবধানে সেখানে সম্পূর্ণ বিনা ফি-তে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বর্তমান জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মোহতাসিন আহমেদ ও অনূর্ধ্ব-১৫ বালকে দেশের ১ নম্বর র্যাঙ্কিংধারী খেলোয়াড় রংপুরেরই সৃষ্টি।
পদাধিকারবলে রংপুর জেলা প্রশাসক সংস্থার সভাপতি হলেও কয়েক বছর ধরে মেলেনি কোনো সরকারি কিংবা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা।
চরম আর্থিক সংকটের কারণে গত দুই বছর ধরে জমে রয়েছে বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া।
কোচ শামীম সাব্বির জানান, টিটি ফেডারেশনের সহসভাপতি খন্দকার হাসান মুনীরের সহযোগিতায় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে রংপুর সংস্থাই দেশকে এশীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো টিটি তারকা উপহার দিতে পারবে।