স্ত্রীকে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন মাথা ফ্রিজে রাখা রামানুজ পুলিশের গাড়ি থেকে লাফিয়ে নিহত
আসামের গৌহাটিতে স্ত্রীকে হত্যার পর ফ্রিজে মাথা রাখা আসামি রামানুজ গোস্বামী পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে মারা গেছেন। পড়ুন বিস্তারিত।
আন্তর্জাতিক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চীনের সাথে শত কোটি (বিলিয়ন) ডলারের কৌশলগত গোপন বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। জ্বালানি তেল বিক্রির বিপরীতে মার্কিন ডলার কিংবা নগদ অর্থ না নিয়ে, চীনের একটি বিশেষ ফান্ডে জমানো ‘ক্রেডিট’ বা কুপন ব্যবহার করে দেশটি চীন থেকে সামরিক সরঞ্জাম, যানবাহন, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ ক্রয় করছে।
আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থা (যেমন: সুইফট) এড়িয়ে চলে ‘পণ্য বিনিময়’ (Barter System) বা শপিং মলের ‘উপহার কার্ড’-এর মতো গড়ে তোলা এই গোপন কাঠামোর তথ্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে নিশ্চিত করেছেন ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক সূত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি এড়াতে এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকে শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে চীন ও ইরান এক বিশেষ অর্থায়ন কৌশল অবলম্বন করছে:
তেল সরবরাহ ও ক্রেডিট জমা: ইরান চীনে অপরিশোধিত তেল পাঠালে তার বিপরীতে কোনো নগদ ডলার লেনদেন হয় না। এর পরিবর্তে চীনের বিশেষ কিছু ব্যাংক ও ফান্ডে ইরানের নামে সমপরিমাণ ‘ক্রেডিট’ বা অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স জমা করা হয়।
এসপিভি (SPV) বা বিশেষ ফান্ড পরিচালনা: এসপিভিতে থাকা অর্থ পরিচালনায় মূলত দুটি প্রতিষ্ঠান কাজ করে—একটি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং অন্যটি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত। ইরান কোনো পণ্য কিনতে চাইলে এসপিভির অনুমোদনক্রমে চিনে থাকা জমানো ক্রেডিট থেকে চীনা সরবরাহকারীদের মূল্য পরিশোধ করা হয়।
অবকাঠামো ও সামরিক চুক্তি: তথ্যানুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ ইরানে চীনের তৈরি নানা অবকাঠামো প্রকল্পে এবং বাকি অংশ অন্যান্য পণ্য ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে। গত এক বছরে অন্তত একবার এই গোপন ব্যবস্থার মাধ্যমে কয়েক কোটি ডলারের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে তেহরান।
তেলের পরিমাণ ২০২৫ সালে ইরানের মোট রফতানিকৃত তেলের ৮০%-এর বেশি (দৈনিক গড়ে ১৪ লাখ ব্যারেল) কিনেছে চীন।
বার্ষিক লেনদেন এসপিভি (SPV)-এর মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি (২.৫ বিলিয়ন) ডলার লেনদেন।
মূল লেনদেন পদ্ধতি সুইফট (SWIFT) ছাড়া ‘চুইশিন’ (Chuishin) নামক বিশেষ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ক্রেডিট ভাঙিয়ে চীনা পণ্য ক্রয়।
প্রধান আমদানিকৃত পণ্য সামরিক সরঞ্জাম, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যানবাহন, ওষুধ ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের বড় ধরনের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখেও এই বাণিজ্যব্যবস্থা তেহরানের জন্য আর্থিক ও সামরিকভাবে টিকে থাকার মূল অবলম্বন হয়ে উঠেছে। কেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরান থেকে জাহাজে করে পাঠানো অপরিশোধিত তেলের ৮০ শতাংশের বেশি একাই কিনেছে চীন।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের প্রভাষক আন্দ্রেয়া ঘিসেল্লি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান,
“চীন এই ধরনের ব্যবস্থার মাধ্যমে মূলত ওয়াশিংটনের দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তবে চীনা নেতারা চান না তাঁদের মূলধারার ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক। তাই তাঁরা এমন এক ব্যবস্থা দাঁড় করিয়েছেন, যাতে প্রয়োজন পড়লে চীন সরকার বিষয়টি সম্পর্কে অস্বীকার করতে পারে।”
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানের সাথে ব্যবসা করবে, তাদের ডলারভিত্তিক বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়া হবে। তবে চীনের বড় অর্থনীতির কথা চিন্তা করে বেইজিংয়ের প্রধান ব্যাংকগুলোর ওপর সরাসরি সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা চাপানো থেকে ওয়াশিংটন কিছুটা দেখেশুনে পা ফেলছে।
একতরফা মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে চীন ও ইরান দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখার ঘোষণা দিলেও, রয়টার্সের এই গোপন বাণিজ্য প্রতিবেদনের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।