এসবিএসি ব্যাংকে ‘লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি
সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক পিএলসিতে লার্নিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের জন্য কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বিস্তারিত।
গাজীপুর: গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কালভার্টের নিচে সুটকেস ও বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘ পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে প্রেমিক একা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং আলামত গোপন করতে লাশ কেটে কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে সুটকেস ও বস্তায় ভরে ফেলে দেয়।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় পিবিআই, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য তথ্য ও তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে এবং গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকার ‘গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে’ সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গাজীপুর পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, ঘটনাটির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডলির পরিচয় উদঘাটন করা হয়। এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে:
প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিক।
মিশনের মা (আলামত গুমে সহযোগিতাকারী)।
মিশনের বন্ধু (অটোরিকশায় লাশ বহনে সহায়তাকারী)।
আসামিরা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
৮ সেপ্টেম্বর রাত বিয়ে সম্পর্কিত বিরোধে ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে প্রেমিক মিশন।
৯ সেপ্টেম্বর সকাল লাশের আকার বড় হওয়ায় বটি ও ব্লেড দিয়ে কেটে দুই খণ্ড করে সুটকেস ও বস্তায় ভরা হয়।
৯ সেপ্টেম্বর দুপুর অটোরিকশায় করে ভবানীপুর ব্রিজের ওপর থেকে সুটকেস ও বস্তা খালে ফেলে দেওয়া হয়।
১১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সূত্রে জয়দেবপুর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
১২ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
পিবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি তাঁর প্রেমিক মিশনের বাসায় যান। সেখানে বিয়ে নিয়ে বাকবিতণ্ডা হলে মিশন ডলিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে পরবর্তীতে লুঙ্গি ও বালিশ দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত চৌকির নিচে মরদেহ লুকিয়ে রাখেন।
পরদিন সকালে মিশনের মা বানু আক্তার ঘটনাটি জানার পর লাশ গুম করার ষড়যন্ত্রে যোগ দেন। সুটকেসে লাশ পুরোপুরি না আটায় ধারালো বটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে শরীর কেটে দু’খণ্ড করা হয়। এরপর বন্ধু মিল্টনের সহায়তায় অটোরিকশা যোগে মেম্বারবাড়ী ভবানীপুরের কালভার্টের নিচে খালে লাশটি ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, ডলির জাতীয় পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও জুতা উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হচ্ছে।