শ্রীপুরে চায়ের দোকানের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক
মাগুরা: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার খামারপাড়া বাজারে একটি চায়ের দোকানের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওহিদুল ইসলামের…
সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বালিয়া, তেঘরিয়া, শুভংকরকাটি ও শ্রীমন্তকাটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। জোয়ারের পানির তীব্র চাপে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত শনিবার রাতে জোয়ারের পানির চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। বিষয়টি মৎস্যঘেরের মালিকেরা টের পেয়ে দ্রুত গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। খবর পেয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুরা ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে বাঁধ রক্ষায় ছুটে আসেন। এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেদিন ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হলেও কাটেনি আতঙ্ক।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের আরও দুটি স্থানে নতুন করে ফাটল ধরেছে। এসব দুর্বল অংশ দিয়ে চুঁইয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। গত চার দিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে পালা করে বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন। একই সঙ্গে মাটি ফেলে ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামতের চেষ্টা করছেন তাঁরা। তবে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে এই প্রতিরোধ কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খননের সময় অনিয়মের কারণে নদ তার গতিপথ পরিবর্তন করে বালিয়া গ্রামের জনবসতির কাছাকাছি চলে আসে। এতে ওই অংশে নদের গভীরতা ও ভাঙনপ্রবণতা বেড়ে যায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করেনি। ফলে প্রতিবছর জোয়ারের পানির চাপে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের দাবিতে বারবার লিখিত আবেদন ও মানববন্ধন করেও কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, বাঁধের একাধিক স্থান বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের পাশাপাশি সিএস ম্যাপ অনুযায়ী কপোতাক্ষ নদ পুনঃখনন এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বালিয়া এলাকার বেড়িবাঁধের ঝুঁকির বিষয়টি তাঁর জানা আছে। তিনি এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি পরিদর্শনও করেছেন।
তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে সারা দেশে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত সেখানে মেরামতকাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি। মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় বরাদ্দ ও অনুমতি পাওয়া গেলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে, বাঁধে নতুন করে ফাটল দেখা দেওয়ায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে জোয়ারের পানিতে চার গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, সাময়িক মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পরিবর্তে কপোতাক্ষের ভাঙনপ্রবণ অংশে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।