অর্থের বিনিময়ে এনআইডি ও কলের তথ্য সরবরাহের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার
রাজশাহীতে এনআইডি তথ্য, মুঠোফোনের অবস্থান, কল ডিটেইল ও এসএমএসের তথ্য অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের অভিযোগে সেতু হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সিলেট: সিলেট-ঢাকা যাতায়াতে সড়ক, রেল ও আকাশ—তিন পথেই চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উন্নয়নকাজে এক বছরের বেশি সময় ধরে সড়কপথে দুর্ভোগ চলছে। যানজট ও নির্মাণকাজের কারণে সিলেট থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। রেলপথেও নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয় ও ইঞ্জিনসংকটে ভোগান্তি বাড়ছে। অন্যদিকে আকাশপথে টিকিটের অতিরিক্ত দাম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন যাত্রীরা।
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়কপথে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, সার্ভিস লেন নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে নির্মাণসামগ্রী রাখার কারণে স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও কাদার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার রোদে ধুলাবালির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মহাসড়কের ১৪টি স্থানে পর্যাপ্ত রোড ডিভাইডার বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে।
দুর্ভোগ কমাতে সিলেট প্রান্ত থেকে প্রথম সাত কিলোমিটার সড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-সিলেট ছয় লেন মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে।
২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-সিলেট করিডর উন্নয়ন প্রকল্পটির অনুমোদিত ব্যয় ১৬ হাজার ৯১৯ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি ছিল প্রায় ২১ শতাংশ। পরে কাজের গতি বাড়ায় বর্তমানে তা ৩৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সড়কের পাশের সাত জেলায় ৮২৯ দশমিক ৮৩ একর জমি অধিগ্রহণের ধীরগতি ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে জটিলতার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করার আশা করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এদিকে কাঁচপুর থেকে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হলেও লালাবাজার থেকে কদমতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশ দুই লেনই থাকছে। এতে ভবিষ্যতে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা করছেন পরিবহন শ্রমিকেরা।
সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, কদমতলী পর্যন্ত সড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা না হলে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়তে পারে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর জানিয়েছে।
সড়কপথের দুর্ভোগের কারণে সিলেট-ঢাকা রেলপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। কিন্তু বাড়তি যাত্রীর চাপ সামলাতে গিয়ে রেলেও দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। রেলপথে সিলেট থেকে ঢাকা যেতে বর্তমানে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা সময় লাগছে।
ইঞ্জিনসংকট, পুরোনো কোচ, নিয়মিত ট্রেন বিলম্ব, বিনা টিকিটের যাত্রীর চাপ এবং যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, একটি ইঞ্জিন দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি তেলবাহী ট্রেনও পরিচালনা করা হচ্ছে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীদের চাপ কুলিয়ে উঠা যাচ্ছে না। অনেক সময় টিকিট দিতে না পেরে বিব্রত বোধ করি।’
ঢাকা-সিলেট রুটে ২০১২ সালের ১৫ মে চালু হয় ‘কালনী এক্সপ্রেস’। মাত্র চারটি স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে শুরুতে ট্রেনটি এ রুটের দ্রুততম ট্রেন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল। তবে বর্তমানে এর যাত্রাবিরতি বেড়ে ১১টিতে দাঁড়িয়েছে।
পুরোনো কোচের পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দেরিতে ট্রেন ছাড়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায়ই এক থেকে দুই ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি ছাড়ে। ফলে সিলেটে পৌঁছাতে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বেজে যায়।
গভীর রাতে ট্রেন থেকে নামতে গিয়ে বিশেষ করে নারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের গত এক সপ্তাহের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ‘কালনী এক্সপ্রেস’ একদিনও নির্ধারিত সময়ে সিলেটে পৌঁছাতে পারেনি।
স্টেশন ম্যানেজার মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সিলেট থেকে ট্রেনটি নির্ধারিত সময়েই ছাড়ে, তবে ঢাকা থেকে ছাড়তে দেরি হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
সড়ক ও রেলপথের দুর্ভোগ এড়াতে অনেকে আকাশপথ বেছে নিতে চাইলেও সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে টিকিটের উচ্চমূল্য। যাত্রীদের অভিযোগ, সিলেট-ঢাকা রুটে বিমানভাড়া অনেক বেশি হওয়ায় নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য আকাশপথ এখন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
ফলে একদিকে সড়কপথে দীর্ঘ সময়ের দুর্ভোগ, অন্যদিকে রেলপথে শিডিউল বিপর্যয় এবং আকাশপথে উচ্চ ভাড়া—তিন পথেই সিলেট-ঢাকা যাতায়াতকারীদের স্বস্তি মিলছে না। দ্রুত মহাসড়কের নির্মাণকাজে গতি আনা, রেলপথে পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও আধুনিক কোচ যুক্ত করা এবং আকাশপথের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার দাবি জানিয়েছেন যাত্রীরা।