প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ সংবাদ সম্মেলন
বুধবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা: সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও আকর্ষণীয়, জনবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে একগুচ্ছ নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন প্রদান, স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনা, বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ সুবিধা চালু এবং নির্দিষ্ট শর্তে স্কিম থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পর্ষদের এই সভায় প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পদাধিকারবলে অর্থমন্ত্রী এই কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, মানুষের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতেই এসব সংস্কার প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদের অনুমোদন এবং বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই নতুন এই সুবিধাগুলো চালু করা সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান নিয়মে পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর নমিনি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত পেনশন পেলেও, নতুন প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনারের স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। এছাড়া পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছরে নামিয়ে আনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
আইনে বিধান থাকলেও এতদিন তা কার্যকর হয়নি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাহক তাঁর জমানো অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ বিশেষ প্রয়োজনে ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন এবং ওই ঋণের সুদও গ্রাহকের নিজস্ব পেনশন হিসাবেই জমা হবে।
ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা দেওয়ার পর কোনো গ্রাহক শারীরিক ও মানসিকভাবে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে, বিশেষ বিবেচনায় পেনশন ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে তাঁর জমা করা পুরো অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পেনশনারদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে একটি খসড়া পরিকল্পনা ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত এ স্কিমে গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসিক মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সাধারণ মানুষের জীবনধারার কথা মাথায় রেখে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে সরকার।
বয়স্ক জনগোষ্ঠীকে টেকসই সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে ২০২৩ সালের আগস্টে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। তবে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ব্যাংক আমানতের তুলনায় রিটার্ন কম হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিক সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে এতে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। বর্তমানে চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে দারিদ্র্যসীমার নিচের ‘সমতা’ স্কিমেই সবচেয়ে বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন।
পর্ষদ সভায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদিত হলে এবং বিধিমালা সংশোধিত হলে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।